মঠবাড়িয়ায় বেহাল রাস্তা ও কাঠের সাঁকো এখন মরণ ফাঁদ
মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ মিরুখালী গ্রামের একটি বেহাল রাস্তা এবং কাঠের সাঁকো শিক্ষার্থী এবং জনসাধরণের মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তার অভাবে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার জনসাধারণকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
জানাযায়, মঠবাড়িয়া-মিরুখালী-ভান্ডারিয়া সড়কের শহিদের পুল থেকে মালয়েশিয়া কামালের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার জনসাধারণ চলাচল করে থাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, মাওলানা আঃ সালাম আকনের বাড়ির সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক’শ ফুট রাস্তা ভেঙ্গে খালে বিলিন হয়ে গেছে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভাঙ্গা স্থান দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার পাশ দিয়ে প্রবাহিত খালের (মঠবাড়িয়া-মিরুখালী খাল) অপর পাড়ে কেএম ইউসুফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হারজী নলবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও হারজী নলবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এই ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন খালের উপর বাঁশ ও সুপারি গাছের ঝুকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়।
শিক্ষার্থী রাব্বি (৬ষ্ঠ শ্রেণী), রুমানা (৮ম), লামিয়া (৯ম) ও শ্যামলী (৮ম)সহ একাধীক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যাবার সময় বই-খাতা নিয়ে সাঁকো থেকে প্রায়ই কেউ না কেউ পা পিছলে খালে পড়ে যায়।
স্থানীয় ফারুক আকন জানান, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময় কাঁচা রাস্তাটি ইট সলিং করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরে কোন সংস্কার হয়নি।
কৃষক ফজলুল হক হাওলাদার(৭৬) জানান, গ্রামের প্রায় ২’শ একর জমির উৎপাদিত ধান ও আঁখসহ বিভিন্ন সবজি বাজার জাত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মিরুখালী বাজারের ব্যবসায়ি ওই গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ মিয়া জানান, রাস্তা খালে বিলিন হওয়ায় জোয়ারের সময় পানি-কাঁদায় একাকার হয়ে চলাচল করতে হয়। দক্ষিণ মিরুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে ভোট কেন্দ্র। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন এ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মালামাল আনা-নেয়া দরুহ হবে।
কে. এম. ইউসুফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক বাবুল কুমার বিশ্বাস জানান, বছর খানেক আগে খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আর জানান ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার স্বার্থে খালের ওপর দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহ্বুব কবির মনির জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য এমপি মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের পূর্বে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
