সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
নাজিরপুরে যৌতুক দিতে না পেরে বিষপান ॥ চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু
নাজিরপুরে যৌতুক দিতে না পেরে বিষপান করেছে তহমিনা আক্তার ময়না (২৫) নামে এক গৃহবধূ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছেন নিহতের পিতা আজাহার আলী শেখ।
সোমবার বেলা ১১টায় নাজিরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজাহার আলী বলেন, তার মেয়ে তহমিনা আক্তার ময়নাকে বিগত ৫ বছর পূর্বে উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রগুনাথপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেন খানের ছেলে রুবেল খানের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় তিনি জামাতা রুবেলকে নগদ দেড় লাখ টাকাসহ উপহার সামগ্রী দিয়ে ময়নাকে তার হাতে তুলে দেন। কিছুদিন সেখানে সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করার পরে জামাতা রুবেলসহ তার পরিবার আরো যৌতুক দাবী করে ময়নাকে শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা স্থানীয় শালিস বৈঠক হলেও যৌতুকের দাবীতে ময়নার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ নির্যাতন সইতে না পেরে গত মঙ্গলবার ময়না তার আড়াই বছর বয়সের একমাত্র মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে উপজেলার ষোলশত গ্রামে পিতার বাড়ীতে চলে আসে। গত বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নার স্বামী রুবেল খান শ্বশুরবাড়ীতে এসে পুনরায় ময়নার নিকট যৌতুক দাবী করে এবং দাবীকৃত টাকা না দিলে তাকে তালাক দেয়ার হুমকি দেয়। ময়না এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে যৌতুক দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ময়নাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে রুবেল। এক পর্যায়ে যৌতুকের দাবীতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ী লোকজনদের নির্যাতন সইতে না পেরে ওই দিন বিকেলে ময়না বিষপান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। তখন তার পরিবারের লোকজন ময়নাকে চিকিৎসার জন্য নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: শোভন রায় চৌধুরী হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় কামরুল ও বহিরাগত জালাল নামে দু’জন ব্যাক্তির মাধ্যমে ময়নাকে ওয়াশ করান। এ সময় ময়না সুস্থতা অনুভব করে আর ওয়াশের প্রয়োজন নেই বলে চিৎকার করলে জালাল নামের রহিরাগত ব্যক্তি ময়নার বুকের ওপর ওঠে ওয়াশ অব্যাহত রাখলে ময়নার মৃত্যু হয়। এ সংবাদ পেয়ে ডাক্তার শোভন রায় চৌধুরী ওয়াশ করার কক্ষে গিয়ে ময়নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে কথা হলে ডা: শোভন রায় চৌধুরী বলেন, চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হয়নি। অতিরিক্ত বিষপান করায় বিষক্রিয়া শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। সে কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা বাঁচানোর জন্য সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। রহিরাগত লোক দিয়ে ওয়াশ করাতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। আমাদের তদারকিতে তারাই মুলত ওয়াশের কাজটি করে থাকে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম সুলতান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
