প্রধান সূচি

পাইকগাছায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার দাবী জমি মালিকদের

পাইকগাছার গদাইপুর মৌজায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জন্য অধিগ্রহণকৃত ঘোষ পরিবারের জমির উপর শুক্রবার কলেজের ভিত্তিপ্রস্তুত উদ্বোধনের নামফলক তৈরি করার সময় ঘোষ পরিবার কাজ করতে নিষেধ করে। ফলক তৈরি কাজে নিয়জিত লোক জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে এ স্থানে নামফলক তৈরি করা হচ্ছে। ঘোষ পরিবারের জমি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান ও জমির মালিকদের কোন টাকা পরিশোধও করা হয়নি। এ জন্য ঘোষ পরিবারের জমির উপর ভিত্তিপ্রস্তুত ফলক স্থাপন না করে অন্য স্থানে নামফলক স্থাপনের দাবী জানান।

জানাগেছে, অধিকগ্রহণকৃত জমির মালিকদের নামে নিজাম সরদার বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। দেওয়ানী মামলা নং- ৬৯/১৮। উক্ত মামলা করায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করলে জমির মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এ জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য জমির মালিকগণ দাবী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না। তাছাড়া ৬৬৮ দাগের ঘোষ পরিবারের ৩৫ শতক ও ঋশি পরিবারে ৬৬৭ দাগে ১৬ শতক জমি না দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আবেদন করেছিল। তবে জমির মালিকদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ঘোষ পরিবার তাদের ৬৬৮ দাগের ৩৫ শতক জমি না দেওয়ার জন্য খুলনা সাব জজ ৪র্থ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। যার শুনানী অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘোষ পরিবারের এ্যাডঃ নিহিত কান্তি ঘোষ জানান, আমাদের জমির বাজার মূল্য শতক প্রতি মূল্য প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা। সেখানে জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে শতক প্রতি প্রায় ৬২ হাজার টাকা। যা আমরা বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি এবং আর্থিকভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তাছাড়া শুরু থেকেই আমাদের জমি অধিগ্রহণ না করে এ্যালোটমেণ্ট বদল করে জমি অধিগ্রহণ করার জন্য দাবী জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ সুরহা করেনি। সে জন্য আদালতের সরণাপন্ন হয়েছি। ইতিপূর্বে তিনি ঘোষ পরিবারের জমির উপর প্রগতি, উন্নয়ন ও স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আলহাজ্ব এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হক এমপি খুলনা-৬ এবং শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সম্বলিত একটি ব্যানার স্থাপন করে। অধিগ্রহণকৃত জমি নিয়ে একাধিক মামলা হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কার্যক্রম শুরু না করার জন্য জমির মালিকগণ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial