প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ার সমাজসেবা কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা মামলায় আদালতে অভিযোপত্র দাখিল

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এতিমখানায় ভূয়া এতিমের নামে সরকারী অর্থের বিল না দেয়ায় উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার ওপর হামলা ও হত্যার চেষ্টার মামলায় পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে। ‘হাজী গুলশান আরা শিশু সদন’ এর সভাপতি আবদুল গফ্ফার ও ওই এতিমখানার শিক্ষক মোস্তফা মাহামুদকে অভিযুক্ত করে হামলার ঘটনার দুই মাস পর  গত ১ আগস্ট এ অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

অভিযোগ পত্র সূত্রে জানা যায়, ‘হাজী গুলশান আরা শিশু সদন’ এর সভাপতি আবদুল গফ্ফার ওই এতিমখানা খুলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে বড় হারজী গ্রামের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তালুকদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে এতিমখানার সভাপতি গফ্ফারের দূর্নীতি প্রকাশ পায়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আখলাকুর রহমানকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠান। গফ্ফার ছয় মাসের বিল দাবী করলে তিনি আপত্তি তুলে বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে গফ্ফার ভাড়া করা সন্ত্রাসী নিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ও অফিস ভাংচুর করে।

‘হাজী গুলশান আরা শিশু সদন’ এর সভাপতি আবদুল গফ্ফার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। সমাজ সেবা কর্মকর্তা আখলাকুর রহমানের হত্যা চেষ্টায় দেশজুড়ে বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে সমাজসেবা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে গফ্ফারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য।

“গফ্ফার সিকিউরিটি” নামে তার একটি প্রাইভেট কোম্পানি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিতে আউট সোর্সিং কর্মী নিয়োগ করতো। এর মাধ্যমে বেকার তরুন তরুনীদের সরকারী চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তার গফ্ফার সিকিউরিটিস্ কোম্পানিতে আউট সোর্সিং পদে চাকুরী দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

আরও জানা যায়, পল্লী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে অনুমোদিত একটি এনজিও যার সভাপতি আব্দুল গফ্ফার। এই নাম স্বর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কোন জমি, ঘর মঠবাড়িয়াতে নেই। এমনকি সাইন বোর্ডও নেই। ওই সংস্থার নাম ব্যবহার করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রকল্প নিয়ে দরিদ্র ভিজিডির কর্মসূচির অন্তর্ভূক্তি দুঃস্থ মহিলাদের ট্রেনিং ও পূণর্বাসনের প্রকল্প বান্দরবন এবং বরগুনা জেলায় কাজ পায়।

পাথরঘাটার বিভিন্ন ভিজিডি কর্মসূচির আওতার্ভূক্তি মহিলাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এ ধরনের কোন প্রশিক্ষণ তারা উক্ত এনজিওর মাধ্যমে পায়নি।

পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফতিমা পারভিন জানান, পল্লী মানব কল্যান ফাউন্ডেশন সংস্থাটি কর্মকান্ড দৃশ্যমান নয়। তিনি উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকা ভূক্তি করার জন্য সমাজ সেবা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে সুপারিশ করার প্রস্তাব করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন গফ্ফারকে চিহ্নিত দালাল হিসেবে মঠবাড়িয়াবাসী জানে। তিনি বাগেরহাটের এম.পি সমাজসেবার স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল ও মহাপরিচালক গাজী নুরুল কবিরের নাম ভাঙ্গিয়ে অফিসার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধমক দিয়ে বেড়ায় এবং চাকুরী দেয়ার নাম করে অনেককে রাস্তার ফকির করেছে। সে একজন চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীর সন্তান।

উপজেলা মক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন জানান, গফ্ফারের বাবা কাঞ্চন হাজী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় দাউদখালী ইউনিয়নের শান্তি কমিটির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial