গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যানবাহন চলাচল
টগড়া ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি
জোয়ারের পানিতে পিরোজপুরের টগড়া ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন উঠা-নামাসহ যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছে। অমাবশ্যার জ্যো এর প্রভাবে উপজেলার কচা ও বলেশ^র নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের সময় প্রতিদিন দুইবার ফেরীর গ্যাংওয়ে তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে থাকে। এসময় সব ধরনের যানবাহন ও যাত্রীদের ফেরী থেকে ওঠা নামায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ টগড়া ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে সংলগ্ন সংযোগ সড়ক কিছুটা উঁচু করলেও গ্যাংওয়েটি নীচু থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারেই পানিতে তা ডুবে যায়।
সোমবার দুপুরে টগড়া ফেরীঘাটে গিয়ে দেখা যায় ফেরীর গ্যাংওয়েটি প্রায় ৩ ফুট পানিতে ডুবে রয়েছে। যাত্রীবাহী বাস, পন্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও মোটর সাইকেল পানির মধ্য থেকে ঝুঁকি নিয়ে গ্যাংওয়ে পারাপার হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা কোমর পর্যন্ত পানিতে ভিজে তীরে উঠছে। এছাড়া ট্রলারে পার হওয়া যাত্রীরা পানির কারণে ফেরীঘাটের পল্টনে না উঠে দূরে নদীর তীরে উঠছে। এদিন দুপুর ২ টার দিকে টগড়া ফেরীঘাটে খুলনা-কাঠালিয়া রুটের একটি বিআরটিসি বাস (ঢাকা মেট্রো ১১-২০১২) ফেরী থেকে নামতে গিয়ে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গ্যাংওয়েতে পানির মধ্যে আটকে পড়ে। ফলে এ ফেরীঘাট থেকে ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের ৮ রুটের যানবাহন চলাচল। এ সময় বাসযাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এবং ঝুঁকি নিয়ে কঁচা নদী পার হতে হয়েছে।
বাস চালক ও যাত্রীরা জানান, এভাবে মাঝে মধ্যে গ্যাংওয়েতে পানির মধ্যে বাস-ট্রাক আটকে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ থাকে ফেরি চলাচল। এর ফলে এ্যাম্মুলেন্সের রোগীসহ সাধারণ যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারযোগে প্রমত্তা কঁচা নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
টগড়া ফেরীঘাটের ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান জানান, পানিতে গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন পানির মধ্যে দিয়ে ঝুকি নিয়ে উঠা-নামা করছে।
টগড়া-চরখালী ফেরির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে এ সমস্যা চললেও জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করার জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। প্রতি বর্ষা মৌসুমে এভাবে পানিতে ফেরীর গ্যাংওয়ে ডুবে যায়।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম জানান, ফেরীঘাটের গ্যাংওয়ে নীচু থাকায় অমাবশ্যার জ্যোতে জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে যাওয়ায় গাড়ী উঠা-নামায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে গ্যাংওয়ে মেরামত করা হয় কিন্তু ভাটির সময় পানি নীচে নেমে যাওয়ায় ফেরীতে গাড়ী ওঠা নামায় সমস্যার সৃষ্টি হয়।
