স্বরূপকাঠীতে চুরি-ডাকাতি ঘটনা বৃদ্ধি ॥ জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক
স্বরূপকাঠী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসসহ বাসা বাড়ীতে একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলছে। কত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অব্যাহত এসব ঘটনায় এলাকার মানুষকে এখন প্রায়ই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনে উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভায় দু’টি দুর্ধর্ষ চুরিসহ একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ জুলাই শুক্রবার গভীর রাতে স্বরূপকাঠি পৌরসভাধীন জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারি পট্টির একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে ইলেকট্রিশিয়ান হাফিজের ইলেকট্রিক দোকানের তালা ভেঙ্গে চোরেরা পৌনে দু’লাখ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দু’দিনের মাথায় ২৯ জুলাই সোমবার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে হাওলাদার বাড়ীর মাছুম হাওলাদারের বাড়ীতে গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মাঝ রাতে ঘরের তালা ভেঙ্গে নগদ আট হাজার টাকাসহ তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্যে ১৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগ করেন ওই ঘরের এক সদস্য। ওই ঘটনার একদিনের মাথায় ৩১ জুলাই মঙ্গলবার উপজেলার লক্ষনকাঠি গ্রামের প্রভাষক ঝন্টু দাসের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এদিন রাতে ৫/৬ জনের সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত ওই ঘরে হানা দিয়ে নগদ ২২ হাজার টাকা ও ৭/৮ ভরি স্বর্নালংকারসহ প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে গেছে।
ঝন্টু দাস অভিযোগ করেন, ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে তার বৃদ্ধা মা মাধুরী দাস (৫৫) ও বোন লিপিকা দাসকে (২৫) প্রথমে বেধে মারপিট করে মালামাল লুট করে নেয় । এসময় গৃহকর্তা ঝন্টু দাস বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার সপ্তাহ খানেক আগে উপজেলার আকলম গ্রামের কাজী বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
৮জুলাই গভীর রাতে স্বরূপকাঠি পৌরসভার জাকির হোসেন পান্নার বাড়ীতে ডাকাতরা হানা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে থাকা সকলের হাত পা বেধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা কয়েক লক্ষ টাকা ও মালামাল লুটে নিয়ে যায়। ঘরের কর্তা জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ডাকাতরা দলে ১০-১২ জনের মত ছিল। তাদের মধ্যে ৯ ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙ্গে ৩,৩৫,৩৫০ টাকা এবং কয়েক ভরি স্বর্নালঙ্কারসহ ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
এসব চুরি ডাকাতির ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন সুরাহা দিতে পারছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
