প্রধান সূচি

শিক্ষা সচিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইন্দুরকানীতে তথ্য গোপন করে প্রতিবেদন

ইন্দুরকানীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য গোপন করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ায় শিক্ষা সচিবসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক সহকারি শিক্ষিকা। অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

জানা গেছে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ফারজিয়া আক্তারকে নিয়োগের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন না দিয়ে জালিয়াতি করে প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে তিনি শিক্ষা সচিবসহ ১০ জনকে আসামী করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেন।

স্থানীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর আওতায় ওই বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। তখন ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন রেহেনা পারিভন, ফাজিয়া আক্তার, মোর্শেদা আক্তার, বিলকিস ও আফরোজা আক্তার। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনার জন্য পশ্চিম বালিপাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ আনুষঙ্গিক সকল তথ্য বিভিন্ন দপ্তরে পেশ করেন।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের উপ-সচিব ড. কাজী আসাদুজ্জামান স্কুলটির শিক্ষক আত্মীকরণ সংক্রান্ত এনজিও ব্র্যাক কর্তৃক পরিচালিত নিয়োগ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক/শিক্ষিকার তালিকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। ইন্দুরকানী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পূরবী রানী দাস শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন না দিয়ে তথ্য জালিয়াতি করে ফারজিয়া আক্তারের পরিবর্তে আফরোজা আক্তারকে শিক্ষক ক্রমানুসারে ২য় স্থানে দিয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার অভিযোগকারী শিক্ষিকা ফারজিয়া আক্তার জানান, স্কুলটিতে রেহেনা আক্তার ১৯৯৯ সালের ২০ মার্চ, ফারজিয়া আক্তার ২০০৫ সালের ১৫ মার্চ, মোর্শেদা ও বিলকিস আক্তার ২০০৭ সালের ১ মার্চ এবং আফরোজা আক্তার ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল নিয়োগ ও যোগদান করেন। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ থেকে আমি ২য় শিক্ষক হিসেবে খাতায় স্বাক্ষর করি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পূরবী রানী দাস ও প্রধান শিক্ষক রেহেনা আক্তারের যোগ সাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমাকে বাদ দিয়ে আফরোজা আক্তারকে ২য় স্থানে দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।  এ বিষয়ে আমি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব, উপ-সচিব, মহাপরিচালক, উপ-পরিচালক, ডিপিও বরিশাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিরোজপুর, টিও ইন্দুরকানী ও অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী রানী দাস জানান, পূর্ববর্তী শিক্ষা কর্মকর্তা যেভাবে  প্রতিবেদন দিয়েছে সেভাবে আমি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কোন প্রকার ঘুষের আশ্রয় নেইনি। গত ১১ জুন ২০১৮ তারিখ সহকারি শিক্ষিকা ফারজিয়া আক্তার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এ রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিপক্ষ শিক্ষা সচিবসহ ১০ জনকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial