প্রধান সূচি

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক অতপর …

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে চার মাসের অন্তস্বত্তা হয়ে পড়েছে এক যুবতী। চার মাসের সেই অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় পেতে ওই যুবতী এখন বিচার প্রার্থী হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরছেন। কিন্তু অভিযুক্ত রাসেল প্রভাবশালী হওয়ায় সঠিক বিচার নিয়ে নানা শঙ্কার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের।

বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, জয়মনি গ্রামের জেলে শহিদ হাওলাদারের  মেয়ে রানী আক্তারের (২০) সাথে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমুরবুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মো. রাসেলের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়।

দিনে দিনে এ পরিচয় দুজনের সম্পর্ক কাছাকাছি নিয়ে আসে। একপর্যায়ে ছেলে রাসেল বিয়ের প্রলোভন দিলে সে সম্পর্ক শারীরিক পর্যন্ত গড়ায়। এক পর্যায়ে অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে রানী আক্তার (২০)। এ ঘটনা সে রাসেলকে জানালে রাসেল ওই মেয়ে থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন।

রানী জানায়, এখন রাসেলকে বিয়ের কথা বললে সে নানা তালবাহানা শুরু করে। রাসেল তাকে জানিয়ে দেয় “সামনে আমার পুলিশে চাকরী হবে, তাই এ বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য। কিন্তু চার মাসের অনাগত সন্তানের কি হবে, রানীর এ কথায়-রাসেল পিতৃ পরিচয় দিতে অস্বকৃতি জানায় বলে ওই মেয়ে জানায়।

অন্তস্বত্তা হয়ে পড়া রানী আরো বলেন, রাসেল যখন অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় দিতে অস্বকৃতি জানায়, তখনই আমার পরিবারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে রাসেলের দাবি, ওই সন্তান আমার না, তার (রানী) সাথে আমার শাররিক সম্পর্কও হয়নি। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই মেয়ের সাথে পরিচয় হলে মাঝে মধ্যে কথা হয়েছে বলে রাসেল জানায়।

এদিকে রাসেলের গ্রামের মেম্বার (নিশান বাড়িয়া ইউপি সদস্য) মিলন তালুকদার জানান, ওই মেয়ে শনিবার আমার কাছে এসে অভিযোগ করার সময়ই অভিযুক্ত রাসেল আমাকে ফোনে করে বলেন, “ভাই আমি আপনার ছোট ভাই, আমাকে বাঁচান, একটা সমাধান করে দিন”। কিন্তু আমি পরে রাসেলকে অভিবাবক নিয়ে আসতে বললে তিন ঘন্টা বসিয়ে রেখে সে আর আসেনি।

রাসেলের এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনা জানাজানির পরপরই সে গাঁ ঢাকা দিয়েছে।

রাসেলের পিতা আব্দুস ছাত্তার জানান, আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে আমি মাদ্রাসায় পড়িয়েছি, সে এই কাজ কখনোই করতে পারেনা।

এদিকে, মেয়ের গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান (চিলা ইউনিয়ন) গাজী আবকবর বলেন, এ বিষয়ে আমার দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে শুনেছি, তবে আমি এলাকার বাইরে থাকায় বিষয়টি সমাধান করতে পারছিনা।

মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আমি এখনো অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যাবস্থা নিবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial