প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় বৃদ্ধের বসতঘর ভাংচুর-লুটপাট

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা এক বৃদ্ধের বসতঘর ভাংচুরের পর লুটপাট চালিয়েছে। উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের ছোটহারজী গ্রামের বৃদ্ধ মকবুল মুন্সীর (৮০) বসত ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে প্রতিপক্ষ মো. তৈয়বুর রহমান মুন্সী ও তার লোকবল। এদিকে বৃদ্ধ মকবুল বসতঘর হারিয়ে এ বর্ষা মৌসুমে প্রতিবেশীর বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগি বৃদ্ধ মকবুল মুন্সীর ছেলে আবদুস ছালাম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ তৈয়বুর রহমানসহ ৯ জনকে আসামী করে গত বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে গত বুধবার এ হামলার ঘটনার পর পুলিশ এক সপ্তাহ পরেও কোন আসমীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মকবুল মুন্সী একই গ্রামের মৃত মছেল মুন্সীর ছেলে ।
অভিযুক্ত মো. তৈয়বুর রহমান একই গ্রামের মৃত মাওলানা আবদুল আজিজ এর ছেলে। সে স্থানীয় ছোট হারজী সিনিয়র মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট হারজী গ্রামের বৃদ্ধ মকবুল মুন্সীর এর দখলে থাকা ২ দশমিক ৩৮ একর জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষ তৈয়বুর রহমানের সাথে প্রায় দেড় যুগ ধরে বিরোধের মামলা চলে আসছে। সম্প্রতি তৈয়বুর রহমান তার বাড়ি সংলগ্ন খালে বাঁধ দেয়ায় কয়েকশত একর ফসলি জমির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সকালে তৈয়বুরের দেওয়া বাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মিলে বাঁধটি কেটে দেয়। এসময় কৃষকদের সাথে মকবুল মুন্সীর নাতি মো. শাহাদাত বাঁধ কাটায় অংশ নেওয়ায় তৈয়বুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে মকবুল মুন্সির নির্দেশে তার দলবল বৃদ্ধ মকবুল মুন্সির বসতঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এসময় তারা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় হামলা ও লুটের ঘটনায় বৃদ্ধের ছেলে আবদুস ছালাম মুন্সী বাদী হয়ে বৃহষ্পতিবার অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক তৈয়বসহ ৯ জনকে আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাদ্রাসারা শিক্ষক মো. তৈয়বুর রহমান হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন ওই জমির মালিকানা আমার। তারা নিজেরাই ঘর ভেঙ্গে হয়রানি করার জন্য সাজানো মামলা দায়ের করেছে।
এ ব্যাপরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার উপ পরিদর্শক মো. নূর আমিন বলেন, ঘটনার পর আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। বৃদ্ধের বসতঘরে হামলা ও লুটের মামালাটি চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial