পিরোজপুরের বলেশ্বর ব্রীজে মানুষের উপচেপড়া ভীড়
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পিরোজপুরে বিনোদন প্রিয় মানুষের উপচেপড়া ভীড় ছিল পিরোজপুর-খুলনা মহাসড়কের বলেশ্বর ব্রীজে। ঈদের দিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিনোদন প্রিয় মানুষজন তাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটিয়েছে বলেশ্বর ব্রীজে। এছাড়া শহরতলীর ডিসি পার্কেও বিনোদন প্রিয় মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
পিরোজপুর শহরে তেমন কোন বিনোদনের জায়গা না থাকায় ঈদে বাড়িতে আসা লোকজনের কাছে শহরের বলেশ্বর ব্রীজই হচ্ছে বিনোদনের প্রধান স্থান। তাই বিকেল গড়াতে না গড়াতেই লোকজনের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো বলেশ্বর ব্রীজ। ব্রীজের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া বলেশ্বর নদী, নদীর দু’পাশের মনোরম গাছ-গাছালির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেন ব্রীজে আসা লোকজন। কেউবা আবার ব্রীজের নিচ থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে নদীতে ঘুরে বেড়ান।
পিরোজপুরে দেশের বাড়িতে ঈদ করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত মেজর ব্যারিষ্টার সরোয়ার হোসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন বলেশ্বর ব্রীজে। তিনি জানান, পিরোজপুর শহরে বিনোদনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকায় আসা মানুষদের বিনোদনের একমাত্র স্থানই এখন বলেশ্বর ব্রীজ। এখানে কিছুটা খোলামেলা পরিবেশে হাটাচলা করা যায়। রয়েছে প্রচন্ড নির্মল বাতাস।
ঝালকাঠী থেকে বাবার বাড়িতে ঈদ করতে আসা আসমা ইসলাম জানান, ঈদের দিন বিকেলে একটু বিনোদনের জন্য ছেলে মেয়ে আর আত্মীয় স্বজন নিয়ে বলেশ্বর ব্রীজে ঘুরতে আসা। প্রচন্ড গরমের মধ্যেও ব্রীজে এসে বাতাসে শরীর জুড়িয়ে গেছে।
পার্কের মতো আনন্দ-বিনোদনের কোন সু ব্যবস্থা না থাকলেও বলেশ্বর ব্রীজে আসা মানুষদের মধ্যে আলাদা একরকম অনুভূতি দেখা গেছে। এখানে যেন এক মিলনমেলাও। ঘুরতে আসা পরিচিতজনদের সাথে অনেকদিন পরে দেখা হয়ে যাচ্ছে ব্রীজে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় আর কোলাকুলিটাও হয়ে যাচ্ছে ব্রীজে এসে।
এদিকে, ঈদে বাড়ি আসা মানুষের সমাগমে বলেশ্বর ব্রীজে চটপটি, ফুসকা, চানাচুর, ঝালমুড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। ব্রীজের রেলিংএর পাশে রীতিমত চেয়ার বসিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেছে এসব ব্যবসায়ীরা। ব্রীজে আসা লোকজনের নিরাপত্তায় রয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনীও।
এদিকে, জেলা শহরের বাইরে ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের থানা ইকোপার্ক এবং উপজেলার তেলিখালী ইকোপার্কে মানুষের ভীড় ছিল লক্ষ্যনীয়।
