প্রধান সূচি

ডাক্তার, শয্যা সংকট, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দাপট

স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

ডাক্তার, জনবল সংকট আর ভূঁইফোড ভিটামিন কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়তে বসছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। আবার যে ক’জন ডাক্তার রয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাসপতালে চিকিৎসা দেওয়ার চাইতে  বেশি ব্যস্ত থাকেন সিজারিয়ান অপারেশন বাণিজ্যে। আড়াই লক্ষ মানুষের বসবাসকৃত এ উপজেলার সাধারণ মানুষ এখন ডাক্তারের অপেক্ষায় দিনক্ষন গুনছে। কিন্ত খুব শীগ্রই এর সমাধান মিলছে না বলে জানিয়েছে স্বরূপকাঠী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা।

স্বরূপকাঠী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল। ২০০৭ সালে এটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, মঞ্জুরীকৃত বিভিন্ন পদে জনবল থাকার কথা ১৭১জন সেখানে প্রথম  শ্রেনির ২১জনের মধ্য ৭জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ২৫টি পদের মধ্য ২৫ জন থাকলেও, তৃতীয় শ্রেণির ১০২টি পদের মধ্যে জনবল রয়েছে ৯১টিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের জনবল রয়েছে ১৯টিতে। এছাড়া জরাজীর্ন ভবনে চলছে জরুরী বিভাগের কার্যক্রম। রয়েছে এ্যাম্বুলেন্স সমস্যা। এছাড়াও জনবল সংকট আর আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগিরা।

প্রতিদিন নিজ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে রোগি আসছে এ হাসপাতালে। সমস্যার কারনে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তেিত পরতে হচ্ছে রোগীদের।

সরেজমিনে গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ডায়রিয়াসহ নানা রোগ নিয়ে  রোগীরা সিট না পেয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে থাকা কমসংখ্যক এ ডাক্তাররা হিমসিম খাচ্ছেন রোগীদের চিকিৎসা দিতে। একই সাথে হাসপাতালে বেড়েছে অখ্যাত ভিটামিন কোম্পানির স্থানীয় বখাটেদের প্রভাব। সর্বদা ওই বখাটেরা অবস্থান নিয়ে থাকেন ডাক্তারের চেম্বারে। রোগীরা ডাক্তারের কাছে শরীরের দুর্বলের কথা বলা মাত্রই তাদের প্রেসক্রাইবড করে দেয়া হচ্ছে বখাটেদের নি¤œমানের ওইসব ভিটামিন। তবে কোন কোন চিকিৎসকরা বলছেন আমরা এসব ভিটামিনের পট না লিখলে ওইসব বখাটেদের পক্ষ থেকে নানাভাবে হুমকি ধামকি আসছে। কখনো কখনো তারা জোটগত হয়ে বিভিন্ন মহলে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন। তাদের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবে অনেকটা বাধ্য হয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপসনে দু’একটা ভিটামিনের পট লিখতে হচ্ছে। অন্যাথায় হাসপাতালে রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া আমাদের কাছে কষ্টকর হয়ে দাড়াচ্ছে।

হাসপাতালের টিএইচও ডা. তানভীর আহম্মেদ সিকদার বলেন, মানবিক কারনে তাদের ওইসব ভিটামিনের দু’একটা পট ডাক্তররা প্রেসক্রিপসনে লিখছেন। তবে রোগীরা আমাদের কাছে দুর্বলের কথা বললে প্রতিষ্ঠিত ঔষধ কোম্পানীর কোন মাল্টিভিটামিন না লিখে স্থানীয়দের ওইসব অখ্যাত ভিটামিনের পট লিখা হলে এক অর্থে রোগীদের সাথে প্রতারিত করা হচ্ছে। কারণ রোগীরা এসব ভিটামিন খেলে শরীরে কোন কাজও হচ্ছেনা ক্ষতিও হচ্ছেনা। ফলাফল হচ্ছে শূন্য। অপরধারে রোগীরা হচ্ছে প্রতারিত। অনেকসময় তাদের স্থানীয় প্রভাব ও অনেকটা মানবিক কারনে অখ্যাত ওই ভিটামিনের পট রোগীদের প্রেসক্রিপড করে দিতে হচ্ছে।

নাম না প্রকাশের অনুরোধে কয়েকজন ওষুধ দোকানি বলেন, বখাটেদের এসব ভিটামিন বরিশালে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন কোম্পানীর। এসব ভিটামিন খেলে রোগীরা আরোগ্যর পরিবর্তে উল্টো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এসব কোম্পানীর প্রতিনিধিরা ডাক্তারের প্রেসক্রিপসনে সারা দিনে দু’একটা পট লিখাতে পারলেই তাদের দিনের বাজারের পয়সা সংগ্রহ হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোন দোষ দেখা যাচ্ছেনা। তারা আত্মসম্মানের ভয়ে ওইসব স্থানীয়দের ভিটামিন লিখে দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটু শক্ত হলেই এসব দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial