সকলে মিলে এদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে …. শ. ম. রেজাউল করিম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
রবিবার রাতে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদরের নাজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরিসভার উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৪৫তম বার্ষিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কৃষ্ণ ভক্তরা যেখানেই যায়, সেটাই বৃন্দাবনে পরিনত হয়। আমি ভিন্ন ধর্মের একজন মানুষ হিসেবে বলছি ধর্মের কোন রং নেই। ধর্ম কখনই আমাদের কাউকে বিভাজন করে না। কোন ধর্মই অকল্যাণের কথা বলেনা। কোন ধর্মই সন্ত্রাসের কথা বলে না। কোন ধর্মই দুর্নীতির কথা বলে না। কোন ধর্মই জাল দলিল করে অন্যের জমি দখলের কথা বলে না। চাকুরী দেয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ার কথা বলে না।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা পৌঁছে দিতেই আজ আমি এখানে এসেছি। সন্ত্রাসীরা কোন দলের নয়, কোন গোষ্ঠীর নয়, তাদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে রাম-রহিমের সকলের রক্তের বিনিময়ে। একমাত্র মুসলমানের রক্তে নয়, হিন্দুর রক্তে নয় বা খিষ্টানের রক্তেও নয়। কাজেই আসুন আমরা মিলে-মিশে থাকি এবং বাংলাদেশকে বিশ্বে দরবারে একটা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি, দুর্বৃত্ত যারা বাংলাদেশকে জঙ্গীদের রাষ্ট্রে পরিনত করেছিল। যারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করেছিল। সেই শক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে। তাহলে আমাদের যে উন্নয়নের ধারা, এই ধারা ব্যাহত হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হলে, যে সংখ্যালঘু তার বাড়ী দখল হবে। যে সংখ্যালঘুর কন্যা সে অপহৃত হবে। যে আওয়ামী লীগ করে তাকে খুন করা হবে। এই অবস্থা আমরা হতে দিতে পারি না। তাই আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করি।
অনুষ্ঠানে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাষ্টার অমূল্য রঞ্জন হালদারসহ নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রবিবার সকালে তিনি নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রামে প্রবীন ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় দাড়িয়া বংশের মুরব্বী অসুস্থ বাছেদ দাড়িয়াকে দেখতে যান এবং তার শরীরের খোঁজ-খবর নেন। পরে তিনি ওই ইউনিয়নের পাকুরতিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মালিখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।
