নাজিরপুরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে আ’লীগের দু’গ্রুপে বাক বিতন্ডা
নাজিরপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সামনেই শহীদ মিনারের ওপরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলা সদরের ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে উপস্থিত হয় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, নাজিরপুর থানা, নাজিরপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের লোকজন। রাত রাত ১২টা ১ মিনিটে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের এমপি একেএমএ আউয়ালের অনুসারী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিক ভাবে আগতদের ফুল দেয়ার জন্য মাইকে আহবান করেন। প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা ঝুমুর বালার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এর পর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ। পরে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমানেরর নেতৃত্বে নাজিরপুর থানা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের পর্ব আসলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের এমপি একেএমএ আউয়ালের অনুসারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন খানের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে শহীদ মিনারে ওঠেন। অপর দিকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র মোঃ হাবিবুর রহমান মালেক অনুসারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খানের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে শহীদ মিনারে ওঠেন।
এ সময় উভয় গ্রুপ একই সাথে শহীদ মিনারে আলাদা আলাদা ভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণরত অবস্থায় এমপি আউয়াল অনুসারী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন খানের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ মাইকে এমন ঘোষণা দেয়ায় মেয়র পন্থিরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এ সময় মেয়র মোঃ হাবিবুর রহমান মালেক অনুসারী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু এ ঘোষণার প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষে মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এমপি আউয়াল অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন খানের ওপর চড়াও হয় আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ফুল দেয়া নিয়ে সামান্য বাদানুবাদ হলেও পুলিশের তৎপরতায় তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষ হয়েছে।
