পরকীয়া প্রেমের আপত্তিকর ভিডিও স্বামীর মোবাইলে প্রেরণ : স্ত্রীর আত্মহত্যা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় মোসা: আইমিন (২৯) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। জানা গেছে, প্রেমিকের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের আপত্তিকর ভিডিও স্বামীর মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরে স্ত্রী আইমিনের রহস্যজনকভাবে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বিন্না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইমিন একই গ্রামের ফাইজুল হক ও আক্তারুন নাহার দম্পতির মেয়ে এবং রাজু মাঝির স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আইমিনের প্রতিবেশী এক ছেলের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই প্রেমিক তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি আপত্তিকর ভিডিও আইমিনের স্বামী রাজু মাঝির মোবাইলে পাঠিয়ে দেয় এবং ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনার পরে আইমিনের স্বামী রাজু ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাকে দেয়। এতে পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপে পড়ে আইমিন। এ ঘটনার রেশ ধরে আইমিন গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৃতের মা আক্তারুন নাহার জানান, আমার মেয়ে এবং মেয়ে জামাই দুইজনেই ঢাকা থাকতো। কিছুদিন আগে মোবাইলে ধারণকৃত একটি ভিডিও নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। এ বিষয় নিয়ে কয়েকদিন আগে আমার মেয়ে বাড়িতে চলে আসে। মেয়ের জামাই রাজু শুক্রবার রাতে বাড়িতে আসলে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার রেশ ধরেই হয়তোবা আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিতে পারে অথবা কেউ মেরে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। আমি আমার মেয়ের সঠিক তদন্ত করে আইনের কাছে বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন বলেন, নিহতর স্বামী রাজু মাঝির সাথে কিছুদিন আগে ওই মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। তারা উভয়ে পুনরায় বিবাহ করেছে। শুনেছি আইমিনের সাথে তার চাচাতো ভাইয়ের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো।তবে কি কারণে মারা গেছে আমি বুঝে উঠতে পারছি না।
আইমিনের স্বামী রাজু মাঝি বলেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ইয়াসিনের পরকীয়া ছিল। সম্প্রতি ইয়াসিন আমার মোবাইলের ইমো নম্বরে তাদের পরকীয়ার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাঠায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে ইয়াসিন। আমি ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাকে দিই। এরপর বিষয়টি নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এ ঘটনার রেশ ধরেই হয়তো আইমিন আত্মহত্যা করেছে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য রবিবার সকালে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবরিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নেছারাবাদ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরকীয়া এবং স্বামীর মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও পাঠানো ও টাকা দাবী করার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
