প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে ফাস্টফুড ব্যবসার আড়ালে চলছে অনৈতিক কার্যক্রম

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা বেশ কিছু মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুড দোকান ব্যবসার আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব মিনি চাইনিজ, ফাস্টফুড দোকানে খাবার বিক্রির আড়ালে নেয়া হচ্ছে যুবক যুবতিদের একান্ত সময়ের বিলও।
দোকানগুলোতে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস চলাকালীন ‘ওয়েটিংয়ের’ নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার ফাস্টফুডের একটি দোকানে একটি অসামাজিক কার্যকালাপের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলা প্রকাশ্য ফাস্টফুডের দোকানের ভিতরে এসব অসামাজিক কার্যকলাপে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক সমাজ।
স্থানীয় সচেতন মহলের লোকজনদের ভাষ্যমতে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে এগুলো বন্ধ হবে। অন্যথায়, দিন দিন উপজেলায় মিনি চাইনিজ ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ বেড়েই চলবে।
মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুড ব্যবসার আড়ালে যে দোকানগুলোর নাম এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল- মিয়ারহাট বাজারের দুটি দোকান। যার একটি হলো মিয়ারহাট বাজারের ডাজবাংলা এজেন্ট ব্যাংক সংলগ্ন ইয়োলো কিংস এবং অপরটি হলো বাজারের ভিতরে এএফসি। যার পৃথক পৃথক দুটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া একই বাজারের মধ্যে বেশ কয়েকটি রেষ্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অসামাজিক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩১টি বাজার রয়েছে। এসব বাজারের মধ্যে মিয়ারহাট, ইন্দেরহাট ও স্বরূপকাঠি পৌরসভার অলিগলিতে ফাস্টফুডের ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে। বাজারগুলোর অলিগলিতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এসব রেস্টুরেন্টের ভিতরে কী আছে তার খবর কেউ রাখে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোন কোন দোকানের ভিতরে ছোট ছোট কেবিন তৈরি করা হয়েছে। আবার কোনটার ভিতরে রয়েছে সোফাসেট পাতা সাথে মৃদু আলোর নানা রঙের বাতি। ওইসব দোকানে সকাল ১০টা বাজার সাথে সাথে শুরু হয় কাস্টমারদের পদচারণা। সে সব কাষ্টমারদের বেশিরভাগই স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুণ তরুণী। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা একান্ত সময় কাটানোর প্রধান আয় হচ্ছে দোকানদারদের। এভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে দোকানের ব্যবসা।
মিনি চাইনিজ ও ফাষ্টফুডের দোকানে এসব অসামাজিক কার্যকালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়োলো কিংস এর পরিচালক মো. সিফাত বলেন, আমি দোকানে থাকি না। আমার দোকানের শেফ মো. সাকিব নামে একজন থাকতো। ঘটনার পরই আমি সাকিবকে সাজা দিয়ে বের করে দিয়েছি।
মিয়ারহাট বাজার পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা মো. ঈমন হোসেন বলেন, ব্যাপারটি শুনে আমি উপরস্থদের জানিয়েছি। আশা করছি তারা দ্রæত ব্যবস্থা নিবেন।
নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ব্যাপারটি চরম লজ্জাজনক। নিয়ম মেনে বাজারের ভিতরে ব্যবসা করতে হবে। অন্যাথায় অনৈতিক কর্মকান্ডে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বনি আমীন জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এসব মিনি চাইনিজ ও ফাষ্টফুডের দোকানে কঠিন নজরদারি করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial