স্বরূপকাঠীতে খাল খননের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি : পাড় ড্রেসিং করেই কাজ শেষ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) তত্ত¡াবধানে নেছারাবাদের জলাবাড়ি ইউনিয়নে প্রায় সাত কিলোমিটার খাল খননের নামে সরকারি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। এসব খালের বেশীরভাগ স্থানে পাড় ড্রেসিং (ছেটে ফেলানো) করা হলেও উপরে কোনো মাটির উঠানো হয়নি। আবার কিছু জায়গায় সামান্য মাটি খনন করেই কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগসাজসে চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের পায়তারা করছে।
সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই খাল খননের কাজ করানো হয়েছে। জলাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি নামের একটি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খনন কাজ বাস্তবয়ন করছে। সঠিকভাবে খাল খনন করা না হলেও ইতোমধ্যে মোট বরাদ্দকৃত টাকার ৭১ভাগ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
জলাবাড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি ও ইউপি সদস্য সুব্রত কুমার হালদার বলেন, ডিজাইন মতো সম্পূর্ণ কাজ করা হয়ে গেছে। সুব্রত কুমার হালদার জানান, সঠিকভাবে কাজ করলেও প্রকল্প প্রনয়ন থেকে শেষ পর্যন্ত বরাদ্দের প্রায় ৩০-৩৫ ভাগ টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের (উপর থেকে নিচ পর্যন্ত) ঘুষ দিয়ে বিল তুলতে হয়।
এদিকে, সমিতির সম্পাদক বিপ্লব হালদার জানান, তাকে এড়িয়ে সভাপতি সুব্রত হালদার নানা ধরণের ছলচাতুরী করে এককভাবে প্রকল্পের কাজ করেছেন।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে পূর্ব জলাবাড়ি গ্রামের কৃষক রতন হালদার বলেন, মাদ্রা বাড়ানি খালের বেশীরভাগ জায়গার পাড় ছাটাই (ড্রেসিং) করেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ওই কৃষকের অভিযোগ সেচ সুবিধার জন্য খালের উজানের দিকে ভরাট হয়ে যাওয়া অংশে বেশী মাটি কাটার প্রয়োজন হলেও সেই অংশেও পাড় ছাটাই করেই খনন করা দেখানো হয়েছে। পূর্ব জলাবাড়ি হাই স্কুলের পিছনের ৩শ’ মিটারের বেশী খালে পাড় ছাটাই করেই কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।
এলজিইডির টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জলাবাড়ি ইউনিয়নের ৫টি খালের ৬ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার খনন করার ক্ষেত্রে সব-কটি খালে ফাঁকিবাজির আশ্রয় নেয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই এসব খাল খননে মানুষের কোনও কাজে আসছে না। একইভাবে এদবর বাড়ি খালসহ সবক’টি খাল দায়সারা খনন করে চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের পায়তারা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মোটা অংকের অর্থের বিনিময় খাল খননের কাজে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রি-ওয়ার্ক মাপে ফাঁক ফোকর রেখে ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরী করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বিভিন্ন সমিতির যোগসাজসে টাকা ভাগাভাগির বিনিময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব প্রাক্কলন তৈরীর সময় ডিজাইনে খালের উৎস মুখের গভীর খর¯্রােতা (ছোট নৌযান চলাচলের মতো গভীর) অংশকে প্রকল্পভুক্ত করেন। সে সুযোগে খালের সামান্য মাটি না তুলেই পাড় ড্রেসিং করেই লোক দেখানো কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে টাকা লুটপাটের সুযোগ তৈরী হয়।
খাল খনন কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পিরোজপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিজাইন মতো সঠিকভাবে খাল খনন করা হয়েছে। ডিজাইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবী করেন ওই কর্মকর্তা। অনেক জায়গায় খালের পাড়ে মাটির অস্তিত্ব না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশে পাশের লোকজন হয়তো মাটি নিয়ে গেছে।
