প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি স্বাক্ষর ছাড়াই এডহক কমিটি গঠন !

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় দুইটি বেসরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত এডহক কমিটির ফর্মে কলেজের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর ও অধ্যক্ষর স্বাক্ষরে এডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। কলেজ দুইটির নাম রাজবাড়ী ডিগ্রী কলেজ এবং পশ্চিম সোহাগদল শহিদ স্মৃতি বিএম কলেজ।
ওই কলেজ দুইটির অধ্যক্ষরা বলেছেন, তারা সাবেক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত ৬ মাসের জন্য এডহক কমিটি গঠন করেছেন। তবে কলেজ দুটির বর্তমান সভাপতি ও নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ওই এডহক কমিটি গঠনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
রাজবাড়ী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমাউন কবির বলেন, তার কলেজে ৬ মাস মেয়াদের একটি এডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। তার নিজের স্বাক্ষরসহ কলেজের সাবেক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর মহোদয় ৬ মাস মেয়াদের একটি এডহক কমিটি অনুমতি দিয়েছেন। যে কমিটির কাগজে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি নেছারাবাদ ইউএনও এর কোন স্বাক্ষর নেই। এডহক কমিটি গঠনের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নীতিমালা মনে নেই। আপনাকে পরে বলব।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বেশিরভাগ কলেজের পরিচালনা পর্ষদ কমিটির তৎকালীন সভাপতিসহ কমিটির অনেকে গা’ঢাকা দেন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক পরিপত্রে দেশের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট স্কুল ও কলেজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত ফর্মের মাধ্যমে এডহক কমিটি গঠনের জন্য একাধিক নাম সম্বলিত সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। যে ফর্মে কলেজগুলোর বর্তমান সভাপতি এবং অধ্যক্ষর সীল স্বাক্ষর থাকার কথা রয়েছে। অথচ, নেছারাবাদ উপজেলার রাজবাড়ী ডিগ্রী কলেজ এবং পশ্চিম সোহাগদল শহীদ বিএম কলেজের অধ্যক্ষদ্বয় ফর্মে স্ব স্ব স্বাক্ষর দিয়ে পূর্ব থেকে মনোনীত সভাপতি, বিদ্যুৎসাহী সদস্যর নামের সুপারিশ পাঠিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেছেন।
পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কলেজের সাবেক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর ও আমার স্বাক্ষরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি এডহক কমিটির সুপারিশ পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। উক্ত এডহক কমিটির সুপারিশের ফর্মে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর থাকলে ইউএনও এর স্বাক্ষর প্রয়োজন আছে কিনা তা আমি বুঝিনা।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই কলেজ দুইটির এডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে উপজেলার দুইটি কলেজের এডহক কমিটি গঠনে সুপারিশ পাঠানোর জন্য তারা আমার স্বাক্ষর নিয়েছেন। যে সুপারিশে একাধিক লোকের নাম পাঠানো হয়েছে। রাজবাড়ী ডিগ্রী কলেজ এবং পশ্চিম সোহাগদল শহিদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের এডহক কমিটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial