প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠিতে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়েছেন সভাপতি পুলকেশ মৃধা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় বন বিভাগের অনুমতি ও উপকারভোগী সমিতির রেজুলেশন ছাড়া সামাজিক বনায়নের ১৬টি গাছ কেটে নিয়েছেন সমিতির সভাপতি পুলকেশ মৃধা। গত ১৬ জুলাই থেকে উপজেলার ভরতকাঠি কালিবাড়ী সড়কের পাশের আকাশমনি, মেহগনি, জারুল জাতের ওই গাছগুলো কাটেন সভাপতি। উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাকে বারবার ফোন দিয়েও সাড়া না পেয়ে সাংবাদিকদের জানান সমিতির সদস্যরা। সাংবাদিকদের তৎপরতায় গত মঙ্গলবার গাছ কাটা বন্ধ হলেও বন কর্মকর্তার কোন উপস্থিতি পায়নি বলে সদস্যগণ ও এলাকাবাসী জানান।
গত মঙ্গলবার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে সমিতির সদস্য ও স্থানীয়রা জানান নানা কথা। সমিতির সদস্য অনন্ত সিংহ বলেন, সমিতির সভাপতি দৈহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুলকেশ মৃধা ওরফে সন্তোষ মৃধা বন বিভাগ ও সমিতির সদস্যদের কোন প্রকার তোয়াাক্কা না করে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক বনায়নের ওই সড়কের অসংখ্য গাছ কেটে বিক্রি এবং বাড়ীর আসবাবপত্র তৈরি করেছেন।
সমিতির সদস্য অমর শীল ও কৃষ্ণ কান্ত সিংহ জানান, সিডর ও আমফান ঝরে পড়ে যাওয়া বহু গাছ কেটে সংরক্ষণের নামে আত্মসাৎ করেছেন ওই সভাপতি। অপর সদস্য তপন সরকার ও স্বপন মৃধা জানান, সমিতির সভাপতি পুলকেশ মৃধা অফিসের বরাত দিয়ে গাছ কেটেই চলেছেন। নিজের প্রয়োজনে সুযোগ বুঝে বার বার তিনি গাছ কেটে নেন। যার ফলে উপকার-মুখী সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সকল মহল। এলাকাবাসী জানান, এ বাগানের মালিকতো পুলকেশ একাই। একটি গাছের ডালপালা পড়লেও তিনি নিজে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি পুলকেশ মৃধার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন গাছ কাটতে বলেছেন। সদস্যদের জানাননি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, জানিয়েছি, রেজুলেশন করেছি বলে একটি সদ্য কেনা নতুন খাতা দেখান। তবে যেখানে শুধুমাত্র একটি রেজুলেশন করা রয়েছে। এছাড়া ওই খাতায় অভিযোগকারী বহু সদস্যের সাক্ষর নেই।
তিনি বলেন, সিডরে ও আমফানে গাছ পড়ে গেলে তা কেটে বন বিভাগে জমা করি। ওই সময় রেজুলেশন করেছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, হ্যা করেছিলাম। ওই খাতা কই জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন। তিনি সাংবাদিককে বলেন- রেমালে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে সংরক্ষণ করতে বলেছি। এ প্রতিবেদক মোতালেব হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন- আমি ওই গাছের বিষয়ে কিছুই জানি না। অন্য সাংবাদিকের কথার রেশ টেনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমি তখন গাড়ীতে ছিলাম না বুঝে উত্তর দিয়েছিলাম। কর্তনকৃত গাছগুলো স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখার জন্য ফোনে নির্দেশ দিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- আমি সরেজমিনে দেখি নি।
স্থানীয় দফাদার (গ্রাম পুলিশ) মো. হানিফ জানান, আমি সদস্য হওয়া সত্যেও আমাকে আগে কিছুই জানানো হয়নি। সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে শুনে ঘটনাস্থলে গেলে সোমবার পুলকেশ মৃধা আমাকে বলেন, বন কর্মকর্তা গাছ কাটতে বলেছেন। বিকেলে সে আমাকে জানায় বন কর্মকর্তা এ সড়কের গাছগুলো কেটে আপনার জিম্মায় রাখতে বলেছেন। আমি দেখি গাছের ডালপালা কিছুই নেই। পরে গাছগুলো সরকারী কর্মকর্তার কথামত জমা রাখতে সম্মত হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, আমি গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শুনেছি। বন কর্মকর্তাকে বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে দ্রæত জানাতে বলেছি। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial