প্রধান সূচি

ছারছীনা শরীফের পীর সাহেবের ইন্তেকাল : লাখো মুসল্লির জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় ছারছীনা শরীফের পীর সাহেব আলহাজ¦ মাওলানা শাহ মুহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (৭০) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা মরহুম পীর সাহেব মাওলানা নেছার উদ্দিন আহমেদ ও পিতা মরহুম মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ’র পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জানাজায় শরীক হন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএমএ আউয়াল, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম, বরিশাল সিটি করেপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহ, মাওলানা কাফিল উদ্দিন ছালেহীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিশিষ্ট জনেরা।
পীর সাহেব আলহাজ¦ মাওলানা শাহ মুহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২ টা ১১ মিনিটে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি——রাজিউন)।
বুধবার সকালে তার লাশ ঢাকার মহাখালির গাউসুল আজম মসজিদে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তার কফিন নিয়ে রওয়ানা করে রাত সোয়া ১১টায় ছারছীনা শরীফে পৌছায়। পথে পথে তার ভক্ত মুরিদরা দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সে কারনে কফিনবাহী বহর সাড়ে ৩ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে ৮ ঘন্টা সময় লেগেছে।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা দেশ থেকে ছারছীনা দরবারের মুরিদ, ভক্তরা ছারছীনায় আসতে শুরু করে। হাজার হাজার মুরিদরা ছারছীনায় প্রবেশ করে। রাতে যখন কফিন নিয়ে ছারছীনা দরবারে পৌঁছায় তখন হাজার হাজার মুরিদান জড়ো থাকায় গাড়ীর বহরে থাকা অর্ধশতাধিক গাড়ীর মধ্যে মাত্র ৬ টি গাড়ী প্রবেশ করতে পেরেছে।


উপজেলার মাগুরা থেকে দরবারে গেট হয়ে পীরসাহেবের বৈঠকখানা (কুতুবখানা) পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথ মানুষে সয়লাব হয়ে যায়। বুধবার সকাল থেকে মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষক, ছাত্র ও খাদেমগন কুরআন খতম দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে থাকেন। মূল ফটকে গাড়ীর বহর পৌঁছার সাথে সাথে গোটা ছারছীনার আকাশবাতাস কান্নার রোলে ভারী হয়ে ওঠে। লাশ বহনকারী গাড়ীসহ বহরের ৬ টি গাড়ী এ পথ অতিক্রম করতে আধাঘন্টা সময় লেগে যায়। এসময় নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবির, ওসি গোলাম সরোয়ার, ভান্ডারিয়া থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন, ছারছীনা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমীন অফসারী, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ শরাফত আলী, মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলী ও দরবারের সিনিয়র মুরিদ খাদেমগন উপস্থিত থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষন ও নিয়ন্ত্রণ করেন। রাতেই দরবারের স্থায়ী মঞ্চে সকলের দেখার জন্য কফিন রাখা হয়। পীর সাহেবকে শেষ বারের মত দেখার জন্য দীর্ঘ লাইন রাত থেকে জানাজার পূর্ব পর্যন্ত শেষ হয়নি। অনেক বয়োবৃদ্ধ মুরিদরা ভীড় ঠেলে শেষ বারের মত শায়েখের লাশ দেখতে না পারার আফসোস করে দু’হাত তুলে বলেছেন আল্লাহ শায়েখকে জান্নাতবাসী করান।
বেলা ৩টায় লাখো মুসল্লির অংশ গ্রহনে জানাজা পড়ান পীর সাহেবের বড় সাহেবজাদা, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহন করা গদীনশীন পীর সাহেব আলহাজ মাওলানা শাহ আবু নসর নেছার উদ্দিন হোসাইন আহমেদ। এর পূর্বে পীর সাহেবের ওয়াছিহতের কথা ঘোষণা করেন ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব মাওলানা মেশকাত ছিদ্দিকী। এরপর চিলছিরঅর নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর সাহেবের কাছে সকল মুরিদানরা বয়াত হন এবং মোনাজাত করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial