বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে আছে বিএনপি। তবে আন্দোলন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আর তাতে অসন্তোষ আছে খোদ দলের ভিতরেই। অন্যদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন দল ও জোট। নির্বাচন বর্জন করে সরকার পতনের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হয়। এখন সরকারবিরোধীদের যুগপৎ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের ছয় মাস পেরোলেও বিরোধীদলগুলো যুগপৎ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেনশন নিয়ে আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনের কারণে সরকার বর্তমানে নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। দলটি বলছে, দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক সংকট ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সামাজিক অস্থিরতায় সরকার আগে থেকেই চাপে রয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি বুঝে সুবিধামতো সময়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চায় বিএনপি।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘জাতি দাবি করছে সর্বব্যাপী ঐক্য। কিন্তু অনেকেই ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আগে একটা যুগপৎ ছিল। অনেকে জিজ্ঞেস করেন, যুগপৎ আন্দোলনের খবর কী? কোনো খবর নাই। এখন যুগপৎ নাই।’
২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট। এরপর টানা এক বছরেরও বেশি সময় নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে তারা। বিএনপির পাশাপাশি আন্দোলনের শরিক বিভিন্ন দল ও জোট নিজেদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই এসব কর্মসূচি পালন করে।
বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে একাধিক জোট ও দল যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচদলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট অন্যতম। এর বাইরে অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), এবি পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি, গণ অধিকার পরিষদের দুই অংশ রয়েছে।
৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর যুগপৎ আন্দোলন পথ হারালেও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আন্দোলন-কর্মসূচি তো প্রতিদিন থাকে না। গত মে মাসেও শরিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, কর্মসূচি ঠিক করা হবে।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক একাধিক দল ও জোটের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও জোটগুলোয় হতাশা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পরে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় আন্দোলনের প্রধান দল বিএনপির প্রতি কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে শরিকদের। নিজেদের পর্যালোচনায় বিগত আন্দোলনে সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও কৌশলগত দুর্বলতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি জানান, ৭ জানুয়ারির পর যুগপৎ আন্দোলন আরেক পর্বে প্রবেশ করেছে। নতুন প্রেক্ষাপটে কীভাবে আন্দোলন দাঁড় করানো হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দলগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি পর্ব চলছে। আগামী দু–এক মাসের মধ্যেই আন্দোলনের অনেক বিষয় স্পষ্ট হয়ে আসবে।
