প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠিতে ঘুর্নিঝড়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের তাড়িয়ে দিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক !

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি আলিম মাদ্রাসায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এ আশ্রয় নেওয়া ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারকে ঝড়ের পরের দিন মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী সাইদুর রহমান সাইদের বিরুদ্ধে। তিনি বন্যার পরের দিন সকালে এসে আশ্রয়নবাসীদের সাথে দুব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা মাওলানা সাইদুর রহমানের সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
আশ্রয়নবাসীদের অভিযোগ, ২৬ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ঝাড়ো বাতাসসহ মুষলধারে বৃষ্টি আর বন্যার পানি বেড়ে যায়। এসময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাতে স্থানীয় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার ছুটে আসেন ডুবি আলিম মাদ্রাসায়। পরদিন সোমবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্য গোটা উপজেলার নি¤œাঞ্চল এলাকার শত শত বাড়ি-ঘরে ৩ থেকে ৪ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। ঝড়ে ঘরের উপরে গাছ পড়ে ভেঙ্গে হয়ে পড়ে শতাধিক বাড়িঘর। বন্যায় মাদ্রাসায় আশ্রয় নেওয়া অনেকে পরিবারের বাড়ি ঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারা রাত কাটাবার জন্য মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে দুই দিন ওই মাদ্রাসায় থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্ত মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী মাওলানা সাইদুর রহমান সাইদ গালিগালাজ করে মাদ্রাসা থেকে আশ্রয়নবাসীদের তাড়িয়ে দেন।
ভুক্তভোগী বিধবা নারী নেহারুন (৫৫) অভিযোগ করেন, বন্যায় তিনি ডুবি মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। বন্যায় ঘরের উপরে গাছ পড়ে ঘর ধুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। পানিতে ঘরের মাটির মেঝে (স্থানীয় ভাষায় পোতা) ধুয়ে গেছে। থাকার কোন জায়গা নেই। তাই আর একটা দিন তিনি ওই মাদরাসায় রাত যাপন করতে চেয়েছিলেন। মাদরাসার মাওলানা সাইদ গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয়া মাহিনূর নামে অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, বন্যায় আমাদের ঘর বাড়ি সব শেষ। ঘরে থাকার মত কোন জায়গা নেই। তাই মাওলানা সাইদের হাতে পায়ে ধরে মাদ্রাসায় দুইটা দিন থাকতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের সাথে খুব বাজে ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি বন্যার রাতে মাদ্রাসার বাথরুমে তালা দিয়ে রেখেছেন। আমরা নিরুপায় হয়ে সেই তালা ভেঙ্গে বাথরুম ব্যবহার করায় আমাদের যা ইচ্ছে তা বলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাওলানা সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সমাধান করে দিয়েছেন। এখন আবার কি ?
বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ওই মাদ্রাসার মৌলভী আশ্রয়নের লোকজনের সাথে নাকি খারাপ ব্যবহার করেছেন। আমি মৌলভীকে গালমন্দ করেছি।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial