প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে মামার হাতে ভাগ্নে খুন

প্রধান আসামী ছাড়া অন্যদের ব্যাপারে কিছুই জানেন না মামলার বাদী !

পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) মামা শাহাদাৎ হাওলাদারের পিটুনিতে ভাগ্নে মাসুুম হোসেন হত্যাকান্ডে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজ হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত মাসুমের মেয়ে রুমি আক্তার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তবে পিতা হত্যাকান্ডে জড়িত শাহাদাৎ ও তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ছাড়া অন্য দু’জনকে কেন মামলার আসামী করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না মামলার বাদী রুমি আক্তার। তিনি বলেন, তার পিতা মাসুম হোসেনকে পিটিয়ে মেয়ে ফেলে শাহাদাৎ হাওলাদার। তবে মামলার অন্য আসামীরা হলেন- অভিযুক্ত হত্যাকারীর আপন ভাই মো. সালাম হাওলাদার, মো. খলিল হাওলাদার।
মামলার বাদী রুমি আক্তারের অভিযোগ, প্রকাশ্য রাস্তায় বসে তার পিতা মাসুমকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে শাহাদাৎ। হত্যায় শাহাদাতের স্ত্রী মরিয়মের উস্কানি ছিল। এসময় মামলার অন্য দুই আসামীরা ছিল না। পুলিশ ওই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী শাহাদাৎ এবং তার স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে গ্রেফতার করে বুধবার সকালে পিরোজপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।
মামলার ২নং আসামী মো. সালাম হাওলাদার ছেলে মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ঘটনার দিন তার পিতা সালাম হাওলাদার বরিশাল ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। ডাক্তার না পেয়ে সেখানে সারাদিন তার ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাত ৯টার পরে বাড়ী এসে জানতে পারেন তার বড় ভাই শাহাদাৎ এবং মাসুম এর মধ্যে মারামারি হয়েছে। মাসুম হাসপাতালে আছে। জাহিদ হোসেনের দাবী তার পিতাকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্য চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, উক্ত হত্যা মামলায় পুলিশ সঠিক তদন্ত করলেই আমরা হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবো।
নিহত মাসুমের আপন বোন ফরিদা বেগম বলেন, তার ভাইকে তাদের বড় মামা শাহাদাৎ হাওলাদার পিটিয়ে মেরেছে। তবে এ হত্যার সময় তাদের অন্য দুই মামা- সালাম হাওলাদার এবং খলিল হাওলাদার ছিলেন না। সালাম হাওলাদার ঘটনার দিন বরিশালে ছিলেন। কেন যে তাদের দু’জনকে আসামী করা হয়েছে তা তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান জানান, মামা-ভাগ্নের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরোধ চিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার আসর নামাজের পরে মামা শাহাদাৎ এবং ভাগ্নে মাসুমের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় শাহাদাৎ একটি মোটা চাম্বলের কাঠ নিয়ে মাসুমের মাথায় আঘাত করে। এতে মাসুম রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। পরে শাহাদাৎ মাসুমের হাটুতে আঘাত থাকলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তিনিই (শাহাদাৎ) মাসুমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে আসে। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে মাসুমের মৃত্যু হয়।
নেছারাবাদ থানার এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শাহাদাৎ ও মাসুম সম্পর্কে মামা ভাগ্নে। সোমবার সন্ধ্যায় শাহাদাৎ মাসুমের মাথায় কাঠ দিয়ে আঘাত। এতে মাসুমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শাহাদাৎ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত মাসুমের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial