প্রধান সূচি

দেশ আজ নব্য রাজাকারের কবলে

১৯৭১ সালের ২৬মার্চ বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীনরাষ্ট্র। তবে স্বাধীনতা ঘোষণা হলেও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। এই মুক্তিযুদ্ধ ছিলো বাংলাদেশের আপামর জনগণের মুক্তির সংগ্রামের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক লড়াই। যার ঘোষণা দেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাংলাভাষাকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে একটি জাতি যার নাম বাঙালি আর বাঙালি জাতির রয়েছে নানা চড়াই উৎরাই পেরোনো সংগ্রামের ইাতিহাস।

বাঙালি জাতির ইতিহাস হাজার বছরের বেশি। অন্যদিকে স্বাধীন বাঙালির জাতিসত্তা তথা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ইতিহাস মাত্র অর্ধশতকের কিছু বেশি দিনের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে অনেক মূ্ল্য দিতে হয়েছে জাতিকে। দিতে হয়েছে হাজারো প্রাণেরত্যাগ। স্বাধীনদেশেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে। যারাই স্বাধীনতার চেতনাকে লালন করে, স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে, তারা এখনো পরাজিত শক্তির হামলার লক্ষ্য। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকারকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে ১৯৭৫ সালে। বাঙালি আত্মাহুতি দিয়ে স্বাধীনতা পেলেও স্বাধীনতা বিরোধীশক্তির লক্ষ্য বস্তু থেকে মুক্ত হয়নি এখনো। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশেকে স্বাধীনতার মূল্য দিতে হয়েছে। নিজেরও পরিবারের সদস্যদের জীবনের বিনিময়ে যা এখনও চলমান আছে।

১৯৭১ এর সাথে এদেশের কিছুপথভ্রস্ট মীর জাফরের দল যেমন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। যারা নিজেদের রাজাকার বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতো তাদেরই একদল অনুসারী এখনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত । তারা চায় না দেশ এগিয়ে যাক, তারা চায় দেশ আরও পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে যাক। তারা দেশের নাগরিক হয়ে বহিঃর্বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করতে সদাতৎপর। তাদেরই অন্যতম একজন হলেন অধুনা মহাজন গ্রামীণ ব্যংকের প্রতিষ্ঠাতা ড.ইউনূস। যিনি দেশের হয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেও তিনি দেশের বিশেদাগারে লিপ্তর য়েছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র ঋণের মডেল গ্রামীণ ব্যাংকের সফলতার পেছনে পেছনে রয়েছে এদেশের ঋণ গ্রহিতা অসহায় মানুষের দুঃখ আর কান্নার ইতিহাস।

আমরা শুধু ক্ষুদ্র ঋণের সফলতার গল্পগুলো জানি, কিন্তু ব্যার্থতার গল্প জানি না। আমরা জানি না, কিস্তি দিতে না পারলে ঘরের চালের টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। দরিদ্র ব্যক্তির উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম গবাদী পশু, হাঁস—মুরগী, রিকশা কেড়ে নিয়ে যাওয়ার গল্পগুলোও আমাদের কাছে অজানা থেকে গেছে বছরের পর বছর। কিছুদিন আগে নির্বাচন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে বসে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা কম করেননি। দেশের জনগন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এসকল অপচেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়েছে।

অতি সম্প্রতি তিনি নয়া নাটক মঞ্চস্থ করেছেন, সেটি হলো একাদশ গ্লোবাল বাকু ফোরামে ড. ইউনূসকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থাই ইনেস্কোর ‘দ্যট্রি অব পিস’পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, যা গত ২১ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। প্রশ্ন হলো আদৌ ইউনেস্কো কি পুরস্কার দিয়েছে তাকে? এনিয়ে এক ধরণের ধোয়াশার সৃস্টি করে রেখছেন ইউনূস স্বয়ং নিজেই। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্র থেকে জানা যায় তিনি যে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে প্রচার করেছেন সেটি হলো দ্যা ট্রি অব পিসের একটি রেপ্লিকা মাত্র। আর মূল পুরস্কার প্রদানকারী ইউনেস্কোর কোন প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। সে অনুষ্ঠানে এমনকি ইউনেস্কোর অফিসিয়িাল ওয়েব সাইটেও এ সংক্রান্ত কোন গ্রহণযোগ্য বিবৃতি বা হালনাগাদ তথ্যও নেই। তাহলে কেন এই মিথ্যাচার। মূলত এই পুরস্কার গ্রহণ একটি লোকদেখানো বিজ্ঞাপন মাত্র যার আড়ালে রয়েছে জনগণের সরলতা আর সমবেদনা নিয়ে তার আড়ালে দেশবিরোধী নতুন অপপ্রচারের সুযোগ নেওয়া যা তার জন্য নতুনকিছুনা। একজন সেলিব্রেটি শিল্পীর হাত থেকে পুরস্কারের রেপ্লিকা নিয়ে সেটিকে অফিসিয়াল পুরস্কার বলে চালিয়ে দেওয়াটা রীতি মত প্রতারণার সামিল। কিন্ত সমস্যা এখানেই যে অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ এগুলো খুব সহজেই ধরে ফেলতে পারে। মূলত এটি একটি আত্মপ্রচারণার কৌশল হিসেবে নেওয়ার অপপ্রচার মাত্র।

আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখি, আমরা জানি, স্বাধীনতা পদকের নকশাকারী শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। এখন ধরা যাক শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী যদি কাউকে তার ডিজাইন করাপুরস্কারের রেপ্লিকা প্রদান করে ছবি তোলেন তাহলে নিশ্চয়ই এটি স্বাধীনতা পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে না কারণ এই পদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। ঠিক তেমনি দ্যা ট্রি অব পিস আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে ইউনেস্কোর। যা আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নারী শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য পেয়েছেন। যার তথ্য ইউনেস্কোর ওয়েব সাইটেও সংরক্ষিত রয়েছে।

ড. ইউনূস সাহেব দেশ বিরোধী অপপ্রচারের তকমা ঢাকতেই এই মিথ্যা নাটক মঞ্চস্থ করেছেন যেমনটা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এই সব ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকারপরিবর্তে উগ্রতা, জঙ্গিবাদ আর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন যার ফলস্বরূপ আমরা দেখেছি ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নৃশংস গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলাসহ নানাবিধ নেক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ব্যার্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমানের অপচেষ্টা। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও থেমে নেই নব্য রাজাকারদের অপচেষ্টা। এদেশের সচেতন জনগণ এসব অপচেষ্টার জবাব দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বদাই সচেষ্ট। কেননা আমরা রক্তের দাম দিয়ে এনেছি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। যা কারো দানে পাওয়া নয়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক , শিক্ষাবিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial