প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে উপজেলা প্রশাসনের নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় প্রশাসনের নাম করে স্বাধীনতা দিবস পালনে চাঁদাবাজী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার মিয়ারহাট বাজার কমিটির কয়েকজন সদস্যসহ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকান থেকে ওই চাঁদা তুলেছেন। মিয়ারহাট বাজারের কয়েক’শ দোকান থেকে মোট এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন তারা। এভাবে প্রশাসনের নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে আত্মসাত করায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বাজারের ভুক্তভোগী গামেন্টস ব্যবসায়ী মো. বাদশা মিয়া বুধবার বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া উল্লেখ করেন, গত ২০২৩ সাল থেকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কয়েকদিন পূর্বে এবং চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের পূর্বে মিয়ারহাট বাজারের দোকানগুলোসহ তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাজার কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন, মো. আজিম, মো. রুবেল, মো. মোশাররফ হাজীসহ কয়েকজন উপজেলা প্রশাসনের নাম করে স্বাধীনতা দিবস পালনে চাঁদা চাইতে আসে। প্রসাশনের কথা শোনার পর তিনি তাদেরকে একশ টাকা চাঁদা দেন। এসময় তারা আরো দাবী করে। তিনি আর টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা অন দোকানে চলে যায়। এভাবে তারা বাজারের প্রায় ৭শ’ দোকান থেকে উপজেলা প্রশাসনের নাম করে টাকা নিয়েছে। আমি পরবর্তিতে জানতে পারি উপজেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার জন্য বাজার কমিটিকে এমন কোনো আদেশ দেয়নি। এমনকি এরা টাকা তুলে বাজার কমিটির অফিসেও স্বাধীনতা দিবসের জন্য কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নি। ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার দাবি, টাকা তুলে বাজার কমিটির কতিপয় লোকসহ প্রভাবশালীরা আত্মসাত করেছেন।
মিয়ারহাট বাজার কমিটির সভাপতি ও সুটিয়াকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন অসীম জানান, কারা টাকা উঠিয়েছে তা আমার জানা নেই। বাজার কমিটির ক্যাশিয়ার জানে। তিনি আরো বলেন, বাজারের কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়নি। যে যা দিয়েছে তা নেয়া হয়েছে। সবার টাকা ফেরৎ দেয়া হবে’।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এক সদস্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বলা হয়েছিল। স্বাধীনতা দিবস পালনে সরকারি বাজেট কম। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, ক্রেস্টসহ অনেক খরচ হয়। তাই আপনারা যদি ইচ্ছুক থাকেন তাহলে সাধ্যনুযায়ী অনুষ্ঠান পালনে একটু সহযোগিতা করতে পারেন। পরে তারা আমাদের ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে। আমরা বাজার কমিটির সভাপতি সম্পাদক ডেকে তাদের টাকা ফেরৎ পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial