বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে দুই যুবককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ
মোংলায় হরিণ শিকারের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে দুই যুবককে ডেকে নিয়ে অফিসে আটকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বনরক্ষীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে পুর্ব সুন্দরবনের চাদঁপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব ও তার বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে রাত ১টার দিকে ছেড়ে দিলে ওই যুবকদের মূমুর্ষ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। তবে বন বিভাগ বলছে মারধর করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনা হয়েছিল অফিসে।
ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে বাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন বেল্লাল। পাশের বালুর মাঠে ছিলেন নাইম নামের দুই যুবক। এ সময় পুর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব ও স্পীড বোট ড্রাইভার রাজা মিয়াসহ প্রায় ১০/১৫ জনের এক দল বনরক্ষী জয়মনির বটতলা এলাকায় গিয়ে তাদের ডেকে চাঁদপাই ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসে। কিছুক্ষন পরে অফিসের মেইন গেট বন্ধ করে হরিণ শিকারের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের হাত-পা বেধে বনরক্ষীরা বেধরক মারপিট করে। এতে গুরুতর আহত হয় ওই দুই যুবক বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও স্বজনদের। মারধরের সময় বনরক্ষীদের হাতে-পায়ে ধরেও রেহাই পাননি যুবকরা। দেখাও করতে দেয়া হয়নি পরিবারের স্বজনদের। রাত সাড়ে ৮টা থেকে এমন অমানবিক নির্যাতন চলে রাত পোনে ১টা পর্যন্ত। পরে এলাকাবাসীর তোপের চাপের মুখে রাত ১টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয় রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব। পরে গুরুতর অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয় আহতদের। বন বিভাগের এমন কর্মকান্ডে হতাশ জয়মনি জেলে পল্লীসহ গ্রামবাসীরা। আহত যুবক চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকার এছাহাক হাওলাদারের ছেলে বেল্লাল ও সোনাইলতলা গ্রামের আ. সালাম হাওলাদারের ছেলে নাইম হেসেন।
পুর্ব সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব জানান, ওই যুবকদের বিরুদ্ধে হরিণ শিকারের অভিযোগে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের অফিসে ডেকে আনা হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি এবং তেমন কোন অভিযোগ না পেয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র মেডিকেল অফিসার ডা. মেহদী হাসান বলেন, বন বিভাগের মারধরে আহত দুই যুবককে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের শরীরে তেমন ক্ষত না থাকলেও মারধরের আঘাতের ব্যাপক চিহ্ন রয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন বøাড ক্যানসারে আক্রান্ত। অতিরিক্ত মারধরে কিডনী ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এজন্য ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রাখার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বড় ধরনের সমস্যা আছে কিনা। যদি অবস্থা অবনতি হয় তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় মেডিকেলে পাঠানো হবে।
