প্রধান সূচি

অক্টোবরে দেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে মোংলা বন্দর

আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সারাদেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। রেললাইন উদ্বোধনের মধ্য দিয়েই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে রচিত হবে এক নতুন অধ্যায়।
মোংলা-খুলনা রেলপথের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ৮৭ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে মাত্র ৩ কিলোমিটার। দক্ষিণাঞ্চলের মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে সরাসরি ট্রেন যাবে উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ে। মোংলা বন্দর দিয়ে রেলপথ চালু হওয়ার পর আরো গতিশীল হবে দেশের আমদানি-রপ্তানি। নতুন এই রেলপথটি আন্তর্জাতিক রেলপথ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, রেলপথের ৯৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মাত্র দুই শতাংশ রেলপথ ও কিছু ফিনিশিংয়ের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আর এসব কাজ সম্পন্ন করতে এক মাস সময় লাগবে। এ প্রকল্পে রেল চলাচল শুরু হলে মোংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ট্রানজিট সুবিধার আওতায় মোংলা বন্দর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং নেপাল ও ভুটানের পণ্য পরিবহনে সাশ্রয় ও সহজ করতে খুলনার ফুলতলা রেলস্টেশন থেকে মোংলা বন্দর জেটি পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে।
খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান জানান, মোংলা-খুলনা রেলপথের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮৭ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বাকি রয়েছে মাত্র তিন কিলোমিটার রেলপথ ও কিছু ফিনিশিংয়ের কাজ। এই স্বল্প কাজও দ্রæত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কাজ করতে কিছুটা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তারপরও আগামী অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন এ রেলরুট দিয়ে রেল চলাচল শুরু হবে। অক্টোবেরের শেষদিকে এ রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
মোংলা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এইচ, এম দুলাল বলেন, মোংলা সমুদ্র বন্দর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য যেমন পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে তেমনি নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য যেমন কম খরচে মোংলা বন্দর থেকে পরিবহন করা যাবে। তেমনি মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানিও করা যাবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পর মোংলা বন্দরের ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, সাভারসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের গার্মেন্টসের পণ্য এবং অন্যান্য পণ্য এ বন্দর দিয়ে খুব সহজেই স্বল্প সময়ে কম খরচে আমদানি রপ্তানি করা যাবে। এমনকি পাশর্বর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে মোংলা বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial