মোংলায় জমজমাট চটেরহাট পশুর হাট, চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা
মোংলার ঐতিহ্যেবাহী চটেরহাট পশুরহাটে এবার দেশী গরুর আমদানী বেশি। হাটে ভারতের গরুর কোন আমদানী নেই। ফলে দেশীয় ছোট-বড় গরুর দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। এতে ক্রেতারা হতাশ হলেও গো-খামারী ও চাষীদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। এবার কোরবানীতে গরু বিক্রি করে তারা গত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
গরু ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ানসহ দেশীয় জাতের গরু দেশীয় খাবারের মাধ্যমে মোটাতাজাকরণ করেছেন তারা। শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান গরুকে খড়-কুটা, ঘাস, খইল, ভূষিসহ বিদেশীজাতের ঘাস ও খাবার খাওয়ান খামারীরা। আকারে বড় ও দেখতে সুন্দর হওয়াতে অর্থ বিত্তবানদের কাছে শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান গরুর চাহিদাই বেশি। আর মধ্যবিত্তরা দেশী মাঝারি ও ছোট গরুর দিকে ঝুঁকে থাকেন। তবে লবণাক্ত এ এলাকায় ঘাস ও খড় না থাকায় বিকল্প খাবার কিনে খাওয়াতে হচ্ছে গরুকে। খাবারের দাম বাড়ায় বাহিরের খাবার খাওয়াতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারীদের। তারপরও বাজারে বাহিরের গরু না আসলে তাদের বেচা-বিক্রি ভাল হবে বলে জানান তারা।
গরু খামারী মো. মাসুদ, বায়জিদ ও জসিম জানান, এ বছর হাটে বাইরের গরু না আসায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় গরুর দাম। সেজন্য হাটে দেশী ছোট গরুর চাহিদা বেশি। গরুর প্রতি মণ ৩১ থেকে ৩২ হাজার টাকা দর হিসেবে বিক্রি হচ্ছে একেকটি গরু। যা গত বছরের চেয়ে মণে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি। দাম বেশি হওয়ায় মাঝারি সাইজের গরু কেনার প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।
মঙ্গলবার চটেরহাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাটে গরু আমদানী বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে খামারীরা নসিমন ও করিমনে করে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। হাটে ভারতের গরু-মহিষের আমদানী না থাকায় দেশী গরুর চাহিদা ও দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় দেশী ছোট ও মাঝারি গরুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, এবার গরু হাটে বেশি বেশী গরু উঠলেও দাম বেশি হওয়ায় বেচা-কেনা তেমন জমে উঠেনি। তিনি এবার ৩০টি গরু হাটে উঠালেও এখন পর্যন্ত ৭টি গরু বিক্রি করেছেন।
পৌর শহরের মিয়াপাড়া এলাকার খামার মালিক মো. মাসুদ জানান, তিনি গত বছর ৪৫টি গরু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছিলেন। গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার মাত্র ২৫টি গরু কোরবানীর বাজারে এনেছেন। এবার গরুর ভালো দাম না পাওয়ায় মাত্র ৯টি গরু বিক্রি করেছেন। তবে এবার হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও দাম চড়া হওয়াতে বেচা- কেনা কম।
ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় দাম অনেক বেশি, তাই কোরবানীর পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরকে। হাটে উঠেছে দেশী-বিদেশী জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। তবে হাটে পশুর তুলনায় লোকসমাগম অনেক বেশি দেখা গেছে। বেশির ভাগ লোককেই দেখা গেছে পশু কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যেতে। দাম বেশি হওয়াতে হতাশ ক্রেতারা।
গরু কিনতে আসা মাহবুবুর রহমান টুটুল, জাহাঙ্গীর হোসেন, সেলিম হোসেন ও বেল্লাল হোসেন বলেন, গত তিনদিন হাটে ঘুরেও গরু কিনতে পারিনি। গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি। যে বাজেট করা হয়েছে তা সাধ্যের বাইরে। তারপরও কোরবানীর জন্য গরু কিনতে হবে, কিছু করার নেই।
তবে ভাল দাম না পাওয়ায় বিক্রেতারাও তাদের পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজ ও কাল দুইদিন কম দামে পশু কিনতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ক্রেতাদের।
মোংলার ঐতিহ্যবাহী চটেরহাট বাজার পশু হাটের ইজারাদার মোস্তফা কামাল ইজারাদার বলেন, হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত, জাল টাকা সনাক্ত, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের তদারকির পাশাপাশি অন্যান্য হাটের তুলনায় খাজনাও কম নেওয়া হচ্ছে। তবে বেচা-কেনা কম, দাম বেশি বলে জানান তিনি।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুউদ্দীন বলেন, পশুর হাটে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তারা। এছাড়াও ক্রেতারা পশু কিনে নিরাপদে বাড়ী ফিরতে পারে সেজন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের নজরদারী রয়েছে।
