রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে চীনের জাহাজ
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আনা কয়লা নিয়ে মোংলা সমুদ্র বন্দরে পৌঁছেছে চীনা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জে হ্যায়। শনিবার ভোরে ২৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বন্দরের পশুর নদের হাড়বাড়িয়া এলাকায় ভিড়েছে জাহাজটি। গত ২১ মে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে জাহাজটি। শনিবার সকাল থেকেই জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করে লাইটার বা ছোট জাহাজে করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে নেওয়া শুরু হয়েছে। তারপর তা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কেন্দ্রটির সেডে/গোডাউনে।
বিদেশী জাহাজ ‘জে হ্যায়’র স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘টগি শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিমিটেড’র খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক জানান, আমদানীকৃত রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৬ হাজার ৬২০ মেট্টিক টন জ্বালানী কয়লা নিয়ে চায়না পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জে হ্যায় গত ২১ মে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসার ১৯ দিনের মাথায় জাহাজটি শুক্রবার রাতে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় এসে পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে জাহাজটি শনিবার ভোর ৫টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার-১১ নম্বর এ্যাংকোরেজে ভিড়েছে। জাহাজটি নোঙ্গর করার সাথে সাথেই শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে কয়লা খালাস ও পরিবহণের কাজ। খালাসকৃত কয়লা পরিবহন (লাইটারেজ/নৌযান) করে নেওয়া হচ্ছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে। জেটির নিজস্ব গ্রাস্পের (কামড়ীকল) মাধ্যমে পরিবহনের (নৌযান/লাইটারেজ থেকে) কয়লা উত্তোলণ করে স্বয়ংক্রিয় বেল্টের মাধ্যমে তা মজুদ/সংরক্ষণ করা হচ্ছে কেন্দ্রটির কয়লার সেডে/গোডাউনে।
শিপিং এজেন্ট কর্মকর্তা রিয়াজুল হক আরও বলেন, এর আগে গত ১৬ মে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এম.ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে ৩০ হাজার মেট্টিক টন ও ২৯ মে এম.ভি বসুন্ধরা ম্যাজেস্টি জাহাজে ৩০ হাজার ৫শ’ মেট্টিক টন কয়লা এসেছিলো মোংলা বন্দর হয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। কয়লা সংকটের কারণে গত ৫ জুন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ৯ জুন বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দু:সংবাদের মধ্যেই রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুখবর নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে কয়লাবাহী জাহাজ এমভি জে হ্যায়।
