পিরোজপুরের ৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন : বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া
পিরোজপুরের ৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সীমানা পরিবর্তনের ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরোনো সীমানায় আবার ফিরে গেল পিরোজপুরের তিনটি সংসদীয় আসন।
নতুন পরিবর্তিত সীমানায় পিরোজপুর-১ আসনটিতে থাকছে পিরোজপুর সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা। পিরোজপুর-২ আসনটিতে থাকছে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা এবং পিরোজপুর-৩ থাকছে শুধু মঠবাড়িয়া উপজেলা।
এদিকে, পরিবর্তিত নতুন সীমানা নিয়ে পিরোজপুরের ৩টি আসনের রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলে বইছে নানা প্রতিক্রিয়া। অনেক রাজনৈতক নেতা এতে খুশি আবার অনেকে বেজার। আবার অনেকে বলছেন, সংসদীয় আসনসহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ কাজ নির্বাচন কমিশনের। সংসদীয় আসনগুলোতে বিশেষ করে ভোটার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন কমিশন যেভাবে ভাল মনে করেছে সেই ভাবে সীমানা পরিবর্তন করেছে। এটা তাদের একটা চলমান কাজ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বলেন, পিরোজপুর-১ এবং পিরোজপুর-২ আসনের কোনও কোনও নেতার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে এ দুই আসনের সীমানা পরিবর্তন হওয়ায়। সরকার দলীয় কোন কোন নেতা পরিবর্তিত এ সীমানার জন্য আগে থেকেই নানা তদবির করেছেন।
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী), কাউখালী ও ভান্ডারিয়া উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসনের সীমানা পূন: নির্ধারণ করায় এ অঞ্চলের মানুষ খুশি হয়েছে। কেননা ভৌগলিক দিক থেকে নেছারাবাদ উপজেলার সাথে কাউখালী ও ভান্ডারিয়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল এবং সহজ। এছাড়া এ তিন উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি সৌহাদ্যপূর্ন সম্পর্কও রয়েছে। ফলে এ নতুন আসন বিন্যাস খুবই ভাল হয়েছে। এতে করে এ তিন উপজেলার উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মহারাজ জানান, নতুন সীমানা পরিবর্তনে পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের জন্য একটা সুখবর রয়েছে। নতুন বিন্যাসকৃত আসনের ফলে পিরোজপুর জেলায় আওয়ামী লীগের আসন বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কেননা পূর্বের সীমানার আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিল মাত্র একজন। অন্য দুটি আসনে নানা কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারতো না। এখন নতুন সীমানা নির্বারণ হওয়ায় জেলার তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম এ আউয়াল বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। তারা যেটা ভাল মনে করেছেন সেটাই করেছেন। আমি জনগণের সাথে আছি, জনগণ মতামতই আমার মতামত।
এদিকে, ইন্দুরকানী উপজেলা পিরোজপুর-১ আসনের সাথে যুক্ত হওয়ায় ইন্দুরকানীতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আনন্দ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয়পার্টি-জেপি (মঞ্জু) এর কবল থেকে মুক্ত হলো। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের ঘাটি হলেও জাতীয়পার্টি-জেপি উপজেলাবাসীকে কব্জা করে রেখেছিল।
