মঠবাড়িয়ায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
জাপা নেতাকে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্নের মূল আসামী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর জাতীয় পার্টির নেতা শফিকুল ইমলামের ওপর হামলাকারী মূল আসামী ইয়াসিনকে ঢাকার লালবাগ থানাধীন বেড়িবাধ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মূল হামলাকারী ইয়াসিন মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষাখালী গ্রামের মো. হাফেজ খানের ছেলে।
আহত শফিকুল ইসলাম একই গ্রামের আইয়ূব আলী শিকদারের ছেলে ও তুষখালী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক।
বুধবার দুপুরে মঠবাড়িয়া থানা চত্ত্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সাংবাকিদের জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইয়াসিনের দেওয়া তথ্য মতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার জনৈক জলিল জমাদ্দারের বাড়ির পাশের খাল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ইয়াসিনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াসিনসহ তার ৫ সহযোগীদের নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা ঝাউতলার একটি বাসায় একত্রিত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর বাজার থেকে ৯শ’ টাকায় ৩টি দারালো ‘দা’ ক্রয় করে। পরের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে হত্যার পরিকল্পনাকারী তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ভাই তুষখালী বাজারের মুদি দোকানী নাসির হোসেন জাপা নেতা শফিকুল ইসলামের অবস্থান ও তথ্য ওঁৎ পেতে থাকা ইয়াসিনকে মোবাইলের মাধ্যমে অবহিত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুসা শরীফের সাথে চলমান একটি মামলায় শফিকুল ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে সকালে মোটর সাইকেল যোগে তুষখালী থেকে মঠবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাঝের পুলের সন্নিকটে ফরাজি বাড়ির সামনে কালভার্ট এর উপরে আসা মাত্রই একটি মহেন্দ্র গাড়ি শফিকুলের মোটর সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। শফিকুল মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে পিছনের দিকে দৌঁড় দিলে হামলাকারীরা মাহেন্দ্র থেকে নেমে তাকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাম পা বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় এলোপাথারি কোপানোর কারণে শফিকুলের পেটের ভুরি বেড়িয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।

হামলাকারী ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা ৪ কিলোমিটার দূরে বহেরাতলা এলাকার খালে ধারালো অস্ত্রগুলো ফেলে দিয়ে মাহেন্দ্র যোগে পালিয়ে যায়। মাহেন্দ্র চালককে ৫ হাজার ও অপর ৩ সহযোগীকে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করে ইয়াসিন।
শফিকুল ইসলামকে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই বছর আগে আড়াই লাখ টাকায় হত্যার পরিকল্পনা করেন নাসির হাওলাদার। বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে চুক্তির টাকা পরিশোধও করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা গুরুতর আহত শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাপলে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদারের ভাই নাসির হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ। পরে নাসিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আহত শফিকুলের মা মমতাজ বেগম মামলা করলে নাসির হাওলাদারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে ১ অক্টোবর হামলায় ব্যবহৃত মাহেন্দ্র গাড়িটি পাশর্^বতী ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রাম থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে চালক পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার কারা সম্ভব হয়নি। মূল পরিকল্পনাকারী চেয়ারম্যানের ভাই নাসির হাওলাদার ও মূল হামলাকারী ইয়াসিনের মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন ঘটনায় জড়িত ও পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল, ওসি ডিবি (পিরোজপুর দক্ষিণ বিভাগ) আসলাম উদ্দিন, মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, ডিবি ইনেসপেক্টর মাহফুজ, ওসি অপারেশন আব্দুর হালিম।
