প্রধান সূচি

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সুন্দরবনে ১০০ কুমির অবমুক্ত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনে গতকাল বুধবার অবমুক্ত করা হয়েছে ১০০টি লবণপানি প্রজাতির কুমির। দুপুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের সামনের নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কুমির অবমুক্ত করেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার তালুকদার।
এসময় প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও আবু নাসের মহসিন হোসেন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পাল, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বনবিভাগের পক্ষ থেকে পুরো সুন্দরবনে একশত লবণ পানির প্রজাতির কুমির অবমুক্তের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে বুধবার করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের খালে ৮ কুমির অবমুক্তের মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন উপমন্ত্রী আলহাজ্ব বেগম হাবিবুন নাহার। তিনি বলেন, বুধবার পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের ৪টি রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১শ’ টি কুমির অবমুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০টি, খুলনা রেঞ্জে ২০টি, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে ২০টি ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২৪টি কুমির অবমুক্ত করা হয়। চাঁদপাই রেঞ্জে ২৪টির মধ্যে করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের খালে ৮টি, জোংড়া এলাকায় ৬টি, নন্দবালা এলাকায় ৫টি ও হাড়বাড়িয়ায় ৫টি অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ।
কুমির অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, পুরো মুজিববর্ষ ধরে আমাদের কল্পনা ও স্বপ্ন ছিলো সুন্দরবনে ১শ’ টি কুমির অবমুক্ত করার। বুধবার একসাথে একশত কুমির অবমুক্তের মধ্যদিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এর ফলে বিলুপ্ত প্রায় নোনা পানির কুমিরের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আমরা সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জের খালে ১০০টি কুমির অবমুক্তের উদ্যোগ নেই। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনুষ্ঠানে বুধবার সুন্দরবনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার উপস্থিত থেকে কুমিরগুলো অবমুক্ত করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বিলুপ্তপ্রায় লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণের। এর মধ্যদিয়ে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় থাকা কুমিরের অস্তিত্ব টিকে থাকবে এ সুন্দরবনে। সুন্দরবনে এ কুমির অবমুক্তের বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের বংশ বৃদ্ধি, প্রজজন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলে বনবিভাগ। সে সময় রোমিও ও জুলিয়েট নামক দুইটি কুমির দিয়ে এ প্রজনন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে এ কেন্দ্রের শতাধিক কুমির সুন্দরবনের নদী ও খালে অবমুক্ত করা হয়। তাছাড়াও সর্বশেষ বুধবার একসাথে আরো একশত কুমির অবমুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে আরো ৯৪টি কুমির রয়েছে।
সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে লবণপানি প্রজাতির দেড়শত থেকে দুইশত কুমির রয়েছে। যা সুন্দরবনের ৪৫০টি নদ-নদী ও খালসহ ১৮৭৪.১ বর্গ কিলোমিটার জলভাগের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সুন্দরবনে ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ম্যানগ্রোভ বন থেকে দুই
প্রজাতির হরিণ, দুই প্রজাতির গন্ডার, এক প্রজাতির বন্য মহিষ ও মিঠাপানি প্রজাতির কুমির
বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জলবাযু পরিবর্তনসহ নানা কারণে সুন্দরবনে বন্যপ্রানী হুমকির মুখে রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial