প্রধান সূচি

দুই বছর ধরে জুলে রাস্তার কাজ ॥ ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় দুই বছরেও শেষ হয়নি সড়ক বিভাগের ‘স্বরূপকাঠি-কৃত্তিপাশা’ সড়কের ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের কাজ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কথা অনুযায়ী ২০১৯ সালে রাস্তার কার্যাদেশ পায় তারা। আদেশে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো তা শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তাই কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছেন এলাকাবাসি। রাস্তাটির কাজ ফেলে রাখায় ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও লোকজন। শুকনো মৌসুুমে রাস্তার ধুুুলোবালিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে এলাকার ঘরবাড়ি ও পথচারিরা। সব মিলিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে।
রাস্তার কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এম বিল্ডার্সের প্রকল্প ম্যানেজার মো. নাসরুল্লাহ জানান, আমরা রাস্তার কাজের কার্যাদেশ পেয়েই কাজ শুরু করেছি। কাজের মধ্যে ৪টি ব্রীজ ও ১২টি কালভার্ট রয়েছে। ব্রীজ ৪টি করতে গিয়ে আমির হাজী বাড়ী ব্রীজ, বালিবাড়ি ও ইদেলকাঠি ব্রীজের এ্যাপ্রোচ নামাতে জমি অধিগ্রহনের দরকার হয়। তাই জমি অধিগ্রহণ ও করোনা মহামারির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ করা হয়নি। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ হলেই আগামী ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
ওই সড়কের আমির হাজী বাড়ি এলাকার রাস্তার পাশের মো. ফিরোজ নামে এক মুদি দোকানি অভিযোগ করে বলেন, শুধু জমি অধিগ্রহণ হলেই কাজ দ্রুত হবে না। রাস্তার ইদিলকাঠি ব্রীজের কাজ যেভাবে ধীরগতিতে হচ্ছে তাতে ২০২৩ সালেও তারা কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর তারা কাজ ফেলে রাখায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের চরম ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তাটির কিছু কাজ করে এভাবে ফেলে রাখায় সমস্যায় পড়ছে এলাকার মানুষেরা। এছাড়া শুকনো মৌসুমে ভাঙ্গা রাস্তার ধুলোবাড়িতে তাদের দোকানপাট ও বাসা বাড়িও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সে সময়ে পথচারি ও রাস্তা দিয়ে হাটতে বিশেষ সমস্যায় পড়ছে লোকজন।
ওই রাস্তার পূর্ব কামারকাঠি গ্রামের অটোচালক মো. ফাইজুল হক বলেন, কিস্তির টাকা নিয়ে একটি অটো কিনে এই রাস্তায় চালাচ্ছি। রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বেশি সমস্যা হয় এই ভাঙ্গা রাস্তায় রোগী নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার সময়। এর চেয়ে আগের রাস্তাই ভাল ছিল।
মো. কামাল হোসেন নামে এক দোকানি বলেন, সরেজমিনে রাস্তার প্লান করার সময় আগে ভূমি অধিগ্রহন না করে রাস্তার কাজ ধরায় এখন আমরা নানান ভোগান্তিতে পড়েছি। কবে যে রাস্তার কাজ শেষ হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। কিছুদিন আগে ওই রাস্তার বিকল্প কাঠের পুল দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে খালে পড়ে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌলী মো. মোতালেব মিয়া জানান, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি-কৃত্তিপাশা সড়কের মোট ৪ কিলোমিটারের কাজ। ২০১৯ সালে রাস্তার কাজের কার্যাদেশ পায় এম.এম বিল্ডার্স নামের ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান। ওই ৪ কিলোমিটার রাস্তাসহ রাস্তায় মোট ১৬টি ব্রীজ ও কালভার্টের কাজ রয়েছে। যে কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রথমে রাস্তার ব্রীজগুলোর কাজ করা হয়। ব্রীজ শেষে তার এ্যাপ্রোচ সড়ক করতে গিয়ে স্থানীয় অনেকের জমি দরকার হয়ে পড়ে। তাই জমি অধিগ্রহন করতে গিয়ে রাস্তার কাজে ধীরগতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, তারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অধিগ্রহন কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।
৫নং জলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, যতদূর জানি ওই রাস্তার একমাত্র আমির হাজী বাড়ী এলাকার ব্রীজের এ্যাপ্রোচ করার জন্য ভূমি অধিগ্রহনে একটু সমস্যা আছে। এছাড়া কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাতে রাস্তার কাজ শেষ করতে এতো বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। আমি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন করার দাবি জানাচ্ছি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial