এনজিওর মামলায় গ্রেফতার মা : সন্তানদের খাবার দিল পুলিশ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মরিয়ম বেগম (৩৮) নামের এক আসামিকে গ্রেফতারের পর তার বাড়িতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হয়েছেন মঠবাড়িয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মরিয়মের অসহায় সন্তানদের খাদ্য সহায়তা দেন। গ্রেফতার মরিয়ম উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
জানা গেছে, জাকির হোসেন ব্যবসার জন্য স্ত্রীকে জামিনদার করে মঠবাড়িয়া ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে আরও ৩০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন জাকির। এর মধ্যে গোপনে বিক্রি করে দেন সব জমিজমা। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করে মঠবাড়িয়া থেকে পালিয়ে যান। পরে জাকির ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মের বিরুদ্ধে পিরোজপুর অর্থঋণ আদালতে এনজিওর পক্ষ থেকে মামলা রুজু করা হয়।
সেই সময় মরিয়ম তিন সন্তান নিয়ে তার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তার তিন সন্তান হলো- শারমিন আক্তার (১৮), রুম্মান (১১) ও জান্নাতি আক্তারকে (৯)। সেখান থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে ও কাঁথা সেলাই করে সংসার চালাতে থাকেন। একই সময়ে ওই এনজিওর মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় জাকির হোসেন ও মরিয়মের নামে। স্বামী জাকির দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। সোমবার (৩০ আগস্ট) মঠবাড়িয়া থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক জেন্নাত আলী, এএসআই জাহিদুল ইসলাম ও লাবনী আক্তার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মরিয়ম বেগমের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
মরিয়ম বেগমকে থানায় নেওয়ার সময় তার সন্তানরা কান্নারত অবস্থায় বলে, ‘আমরা এখন থাকবো কীভাবে, খাবো কী, ঘরেতো কিছুই নেই।
মরিয়ম বেগমের সংসারের দুরবস্থা অবস্থা দেখে এএসআই জাহিদুল ইসলাম আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। থানায় মরিয়ম বেগমকে রেখে আজ মঠবাড়িয়া বাজার থেকে এক মাসের চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সাবান, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, চিনি, চাসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা নিয়ে মরিয়ম বেগমের সন্তানদের সামনে হাজির হন তিনি।
এ বিষয়ে এএসআই জাহিদ বলেন, আদালতের আদেশ তামিল করতেই মরিয়মকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরিয়ম বেগম এত অসহায়, যা না দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না। তার অবর্তমানে সন্তানদের আহার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই যতদিন মরিয়ম বেগম জেল হাজতে থাকবেন, ততদিন আমার রেশন থেকে তার সন্তানদের খাদ্য সহায়তা করে যাবো।
