গভীর রাতে অক্সিজেন নিয়ে রোগীর বাড়িতে ইউএনও
পিরোজপুরের কাউখালীতে গভীর রাতে রোগীর বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. খালেদা খাতুন রেখা। তিনি সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অক্সিজেন নিয়ে উপজেলার বাঁশুড়ি গ্রামের দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ সুমী আক্তার (৩৫) এর বাড়িতে উপস্থিত হন। অসুস্থ গৃহবধূ সুমী আক্তার ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসি মশিউর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধু সুমী আক্তারের স্বামী কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িতে এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন সুমী আক্তার। গত কয়েকদিন আগে সে অসুস্থ বোধ করলে পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ আসে। এরপর তিনি বরিশালে চিকিৎসা নেন। পরে করোনা নেগেটিভ হলে বাড়িতে আসেন। হঠাৎ করে সোমবার রাতে প্রচন্ড শ্বাস কস্ট শুরু হয় তার। পরিবারের স্বজনরা অসুস্থ গৃহবধূর সৌদি প্রবাসি স্বামীর কাছে বিষয়টি জানান। স্ত্রীর শ্বাসকস্টের বিষয়টি কাউখালীর প্রবীণ সামাজিক উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরুকে ফোন করে অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি কাউখালীর ইউএনও খালেদা খাতুন রেখাকে জানান। ইউএনও জানতে পেরে সাথে সাথে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সঙ্গে একজন স্বাস্থ্য সেবিকা নিয়ে উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরের বাঁশুড়ি গ্রামে বিপন্ন গৃহবধূর বাড়িতে উপস্থিত হন। এভাবেই বিপন্ন গৃহবধূর অক্সিজেন মেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ সামাজিক উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, অসুস্থ গৃহবধূর প্রবাসি স্বামীর মাধ্যমে করোনায় অসুস্থ সেই গৃহবধূর শ্বাস কস্টের কথা জানতে পেরে ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করি। তিনি রাতেই নিজেই অক্সিজেন নিয়ে বিপন্ন ওই গৃহবধূর বাড়িতে ছুটে যান। তার এমন জনবান্ধব মহতী কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. খালেদা খাতুন রেখা বলেন, করোনা সংকটে আমরা প্রতিটা মানুষই নানা শংকা নিয়ে কাটাচ্ছি। এখন লকডাউনে মানুষ আরো বিপন্ন। যেমন বিপন্ন করোনা আক্রান্ত বিপন্ন দুরগ্রামের ওই গৃহবধূ। সে রাত গভীরে শ্বাস কস্টে ছিলেন। খবর পেয়ে সময় মতোই তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছি। এটি সংকট সময়ে আমাদের মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করি।
