লকডাউনে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের তৎপরতা বেড়েছে
চলমান লকডাউনে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধনে চোরা শিকারিদের তৎপরতা বেড়েছে। প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুযোগে তারা বিভিন্ন কৌশলে ছোট ছোট খাল দিয়ে বনের অভ্যন্তরে ঢুকে ফাঁদ পেতে হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণি হত্যা ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে চলছে। চোরা শিকারিদের এমন তৎপরতায় হুমকির মূখে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বনবিভাগের কঠোর নজরদারি সত্বেও সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো যাচ্ছেনা। গত ৫ ও ৯ জুলাই দুই দফায় অভিযান পরিচালনা করে হরিণ শিকারের ফাঁদ, দড়ি, বিষের বোতল, জালসহ ৪ পাচারকারীকে আটক করে বনবিভাগ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, পাচারকারীদের সংঘবদ্ধ চক্র গোপনে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বন্যপ্রাণি নিধন করে তার অঙ্গ প্রতঙ্গ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে।
পুলিশ ও বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে তিন চোরা শিকারিকে আটক করে বন বিভাগ। শরণখোলা রেঞ্জের কাতলেশ্বর এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক শিকারিরা হলেন- বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তাফালবাড়ি গ্রামের আবুল শিকদারের ছেলে শাহদাত শিকদার (৩০), আ. মালেক খানের ছেলে কাইউম খান (২২) ও দক্ষিণ চরদুয়ানি গ্রামের আ. ছত্তারের ছেলে জাকারিয়া (২৩)। তাদের কাছ থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, ১৫০ ফুট নাইলনের দড়ির ফাঁদ ও একটি দা উদ্ধার করা হয়। আটক তিন শিকারিকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুলাই সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের পশুর নদীতে অভিযান চালিয়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতিকালে একটি নৌকা, ১৬ বোতল ও ৬ প্যাকেট বিষ, একটি জাল ও বরফ জব্দ করা হয়।
চাঁদপাই রেঞ্জ স্টেশন কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, অভিযানকালে জেলেরা নদীতে ঝাঁপিয়ে বনের ভিতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে গত ৫ জুলাই সকালে পূর্ব সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ও কাটাখালির সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে একাধিক বন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাজ্জাক ব্যাপারী (২৮)কে তিন বোতল বিষ, হরিণ শিকারের ফাঁদ, এবং মাছসহ আটক করা হয়। সাজ্জাক ব্যাপারী মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়া বাঁশতলা গ্রামের আফজাল ব্যাপারীর ছেলে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাজ্জাক একজন চিহ্নিত চোরা শিকারি। তার বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হরিণ শিকার, বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের যে কোন তৎপরতারোধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। লকডাউনে বনের অভ্যন্তরে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টহল দিচ্ছে বনরক্ষীরা।
