মোংলায় করোনায় দুইজনের মৃত্যু ॥ নতুন শনাক্ত ১৪
মোংলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে করোনায় পৌর শহরের সিগনাল টাওয়ার এলাকায় সোহরাব হোসেন (৮৫) এবং উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পাখিমারা এলাকায় মতলেব খাঁ (৭০) এর মৃত্যু হয়েছে। দুইজনেরই গত সপ্তাহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেনের গত ২৪ জুন করোনা পজেটিভ হয়। এরপর থেকে তিনি বাড়ীতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে তিনি তার নিজ বাড়ীতেই মারা যান। করোনায় তার মৃত্যুর পর স্থানীয় যারা লাশের গোসল করান তারা না আসায় খবর পেয়ে শহরের কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম ব্যাপারী গিয়ে ওই লাশের গোসল করান। আব্দুস সালাম ব্যাপারী মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরকে গত বছর থেকে নিজ ইচ্ছায় ফ্রি গোসল করিয়ে আসছেন। শুধু করোনায় নয়, যে কোন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেলে সেখানে ছুটে যান আব্দুস সালাম ব্যাপারী।
আব্দুস সালাম ব্যাপারী বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ভয়ে গোসল করাতে এবং কাছেও কেউ আসতে চায় না। তাই আমি নিজ ইচ্ছা থেকেই করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরকে ফ্রি গোসল করিয়ে আসছি। মঙ্গলবার একজনসহ গত দেড় বছরে ৪৭ জন করোনা রোগীর লাশের গোসল করিয়েছি।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে করোনা আক্রান্ত উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলার পাখিমারা গ্রামের বাসিন্দা মতলেব খাঁ (৭০)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান। তিনিও গত সপ্তাহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত ছিলেন।
এর আগে গত শনিবার করোনায় পাখিমারা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোসেনের মৃত্যু হয়।
মোংলায় নতুন করে ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন করোনা পরীক্ষা করেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪৫ ভাগ। এর আগে সোমবার ছিল ৫৬.৫২ ভাগ আর রবিবার ছিল ৫৫.৫৫ ভাগ। গত এক মাস ধরে মোংলায় শনাক্তের গড় হার ৫৫ ভাগ বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস।
