ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর ৩০ গ্রাম প্লাবিত
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কঁচা ও বলেশ^র নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জলোচ্ছ্বাসের উপজেলার অধিকাংশ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার ইন্দুরকানী, চাড়া খালী, কালাইয়া, সেউতিবাড়ীয়া, রামচন্দ্রপুর, পত্তাশী, টগড়া, উমেদপুর, পাড়েরহাট, চরগাজীপুর, বালিপাড়া, চরবলেশ^র, খোলপটুয়া, কলারণ, পাড়েরহাট আবাসন, চাড়াখালী গুচ্ছগ্রাম, সাঈদখালী আবাসনসহ ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপজেলার অধিকাংশ কাঁচা ও আধাপাঁকা ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলী জমি, ভেসে গেছে অধিকাংশ মাছের ঘের। কলা, পেপে, কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে উপজেলার নদী, খাল-বিল, পুকুরে লবন পানি ঢুকে পড়ায় এবং লবন পানির নিচে বীজতলা ডুবে থাকায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা দুর্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নদী তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা সিদ্দিকা জানান, ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান এখনই বলা যাচ্ছে না। জলাদ্ধতা সৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমী ফলের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পিরোজপুরে ৫/৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পিরোজপুর শহর ও শহরতলীর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
