প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা দেখে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর রাষ্ট্র নায়করা আজ হতবাক। করোনাভাইরাসের মহা দুর্যোগের সময়ে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গেলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম থামে নি। আর এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শীতাপূর্ন নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
সফল রাষ্ট্রনায় শেখ হাসিনা’র উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় পিরোজপুর-১ আসনের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার স্বপ্নযাত্রার ২ বছর উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ ছিল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। কিন্তু আজ বাংলাদেশ দুর্নীতি মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বা তার পরিবার দুর্নীতি করেন না। তিনি কারও দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সকল রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে একজন সর্বশ্রেষ্ট ও সৎ রাষ্ট্র প্রধান।
শ ম রেজাউর করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত, সমৃদ্ধ ও বিজ্ঞানমনস্ক দেশ গড়ে তুলছেন। তিনি ক্লান্তিহীনভাবে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশ আজ উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। এসবই শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। দেশের উন্নয়নের সকল কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। তাই শেখ হাসিনার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
পিরোজপুরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে পিরোজপুরের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আপনারা ভোট দিয়েছিলেন আমার বিত্ত-বৈভবকে বাড়ানোর জন্য নয়। ভোটের সময় বলেছিলাম এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা-ঘাট উন্নয়নে আপনাদের কর্মী হিসেবে, সেবক হিসেবে কাজ করবো। সেটা আমি বিস্মৃত হতে চাইনি। সেকারণে আমি প্রাণপন দৌড়াচ্ছি। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তর, এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয় ছুটে বেড়াচ্ছি। পিরোজপুরের উন্নয়ন আমার স্বপ্ন। আমার উপর বিশ্বাস রাখুন। পিরোজপুর-১ আসনে ২ হাজার ৫ শত ৮৯ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার অধিক অর্থমূল্যের উন্নয়ন প্রকল্প আমরা বিগত দুই বছরে পেয়েছি। এর বাইরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাউজিং, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, হর্টিকালচার সেন্টার, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ অনেক প্রতিষ্ঠান পেয়েছি। পিরোজপুরে আমরা ব্রডগেজ রেল লাইন নিয়ে আসছি। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে উন্নত পিরোজপুর গড়ে তুলি।”

আজ বুধবার বিকেলে নাজিরপুর উপজেলা শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাস্টার কেশব লাল দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য এডভোকেট চন্ডিচরণ পাল, নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার অমূল্য রঞ্জন হালদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম মুহিদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরিন, নাজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, শ্রীরামকাঠী উত্তম কুমার মঠের প্রতিষ্ঠাতা কুমার আচার্য, জেলা স্বেচ্ছাসবক লীগের আহ্বায়ক শফিউল হক মিঠু, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র বসু, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন বিশ্বাস, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিরুজ্জামান অনিক প্রমুখসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান খান শামীম, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খোকন কাজী ও সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস। পিরোজপুর-১ আসনের (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ উপজেলা) উন্নয়ন ও সফলতা উদযাপন কমিটির এ জনসভার আয়োজন করে।
জনসভায় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ, নাজিরপুর, স্বরূপকাঠী, কাউখালী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার জনতা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভা শেষে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কন্ঠ শিল্পি মমতাজ বেগম এমপি, প্রতিক হাসানসহ অন্যান্য শিল্পিবৃন্দ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দেবাশীষ বিশ্বাস।
জনসভাকে ঘিরে স্টেডিয়াম মাঠসহ আশেপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিনত হয়। দুপুরের পর থেকে উপজেলা স্টেডিয়ামে মানুষের ঢল নামে। বিকেলের মধ্যে পুরো স্টেডিয়াম মাঠের কানায় কানায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিকেলে পরে হাসপাতাল সড়ক, থানা সড়ক, পিরোজপুর-নাজিরপুর-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কেও লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
