পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে জমজমাট লড়াই : নিরূত্তাপ মেয়র পদ
পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে জমজমাট লড়াই চলছে। তবে নিরূত্তাপ মেয়র পদের নির্বাচনে।
পাইকগাছা পৌরসভায় আগামি ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও কমিউনিষ্ট পার্টি দুই মেয়র প্রার্থীসহ সব কাউন্সিলররা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছে। ভোটারদের মন জয়ের জন্য ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ প্রচারণা আর গণসংযোগ।
নির্বাচনে মেয়র পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সেলিম জাহাঙ্গীর ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মন্ডল। নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা ও গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. সেলিম জাহাঙ্গীর। তার দলীয় কর্মীরা বিভিন্নভাবে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ দলের সব সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের দেখা গেছে প্রচারণায়।
অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য প্রচারণা দেখা যায়নি। তবে তার পক্ষে মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। পৌরসভার একাধিক ভোটার জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনে জয়লাভ সময়ে অপেক্ষা মাত্র। বিএনপির প্রার্থী না থাকায় মেয়র পদে নির্বাচন নিরূত্তাপ হয়ে পড়েছে। তবে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর থাকায় নির্বাচনে প্রাণ রয়েছে।
এদিকে, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটারা ধারণা করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামালউদ্দীন আহমেদ জানান, পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দু’জন, ৩টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১নং ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন একজন। মেয়র পদে ৩জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামার মনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।
বর্তমানে পৌর এলাকায় প্রার্থীদের পোস্টারে সয়লাব। দুপুর দুইটার পর থেকে শুরু হয় প্রার্থীদের মাইকিং।
উপজেলা রির্টানিং অফিসার কামাল উদ্দীন আহমেদ জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জানুয়ারী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট প্রহণের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রে ম্যাজিষ্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল টিম মোতায়েন করা হবে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ওসি এজাজ শফি জানান, পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে। এ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তিনি আশা করছেন নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত এ রকমই থাকবে।
১৯৯৮ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পাইকগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পাইকগাছা পৌরসভার বর্তমান আয়তন ২ দশমিক ৫২ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ২১ হাজার। পৌরসভার ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৭০৩ জন এবং নারী ৭ হাজার ৩৫৮ জন। নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ৪৩টি বুথ করা হয়েছে ভোট গ্রহনের জন্য।
