প্রধান সূচি

মোংলা বন্দরে উদ্ধারকারী জাহাজ নেই ॥ নেই জরুরি বার্তার ব্যবস্থা

ৃদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলায় প্রতিবছর হাজারো দেশি বিদেশি জাহাজ আসে। দুর্যোগের সময় মাঝে মধ্যে বিপদেও পড়ে এসব জাহাজ। ঠিক সে মুহূর্তে এই বন্দরে নেই জরুরি উদ্ধারে কোনো উদ্ধারকারী জাহাজ ও জরুরী বার্তার ব্যবস্থা।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটিকে নির্ভর করতে হয় বেসরকারি বিভিন্ন উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের উপর। তবে এ সংকট সমাধানে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। মোংলা থেকে হিরনপয়েন্ট পর্যন্ত চারটি স্থানে ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) বসানো হচ্ছে।  গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এর ৩৭ ভাগ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর পশুর নদী ও মোংলা নদীর সংযোগস্থলে প্রতিষ্ঠা করা হয় মোংলা বন্দর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বন্দরের সক্ষমতাও বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু বন্দরে আগত জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, দেশের কোনো সমুদ্র বন্দরেই জরুরি অবস্থায় উদ্ধারের জন্য নিজস্ব উদ্ধারকারী জাহাজ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের “শক্তিমান” নামের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ছিল। ৯০’র দশকে ঝড়ের কবলে পড়ে নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলো উদ্ধারকারী জাহাজ শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, উদ্ধারকারী জাহাজ না থাকায় মোংলা বন্দরের কোন জাহাজ ও পরিবেশের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৯০৩টি জাহাজ এসেছে। এছাড়া চলতি অর্থ বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১৭টি জাহাজের আগমন ঘটেছে। ২০১৪ সালে ৯ ডিসেম্বর ভোরে সুন্দরবনের শেলা নদীতে একটি মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় সাড়ে তিন লাখ লিটার জ্বালানি তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার ডুবে যায়। সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময় রাসায়নিক সার ও ক্লিংকারবাহী জাহাজ ডুবিতেও সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

শিপিং ব্যবসায়ী নুরু এ্যান্ড সন্স’র স্বত্বাধিকারী এইচ এম দুলাল হোসেন জানান, জরুরী বার্তা না থাকায় অনেক সময়েই হঠাৎ বিপদে পড়তে হয়। সম্প্রতি আমাদের জাহাজের একজন নাবিক মারা গেছে রাতে, আমরা খবর পেয়েছি পরের দিন বিকেলে। এরকম অনেক খবরাখবর আমরা বিলম্বে পাই। কিন্তু মোংলা বন্দর থেকে হিরন পয়েন্ট পর্যন্ত যদি নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি ভিটিএমআইএস কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমরা ব্যবসায়ীরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, দেশের কোন বন্দরেরই নিজস্ব কোন উদ্ধারকারী জাহাজ নেই। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাবউটিএ) ২৫০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটো জাহাজ রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন হলে আমরা ওই জাহাজ ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও জরুরী অবস্থায় আমরা বিভিন্ন বেসরকারি উদ্ধারকারী জাহাজের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। আর এ পর্যন্ত তেমন কোন বড় দুর্যোগে পড়েনি মোংলা বন্দর। তবে ২০১৪ সালে তেল বোঝাই জাহাজ ডুবিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সমুদ্রে ও আমাদের চ্যানেলে জাহাজ বিপদে পড়লে আমরা প্রথম উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু জাহাজের বেশিরভাগ অংশ ডুবে গেলে এটি আর উদ্ধার করা হয় না। স্ক্রাপ ঘোষণা করে কেটে খন্ড খন্ড করে তুলে ফেলা হয়। জরুরী অবস্থায় উদ্ধারের জন্য আমাদের নিজস্ব উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে ২০০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ কেনা হবে।

পর্যায়ক্রমে এ সক্ষমতা আরো বাড়ানো হবে বলে জানান মোংলা বন্দরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial