প্রধান সূচি

ইন্দুরকানীতে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে অভিমান করে শেফালী রানী (৪৫) নামের এক গৃহবধূ চালের পোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাজ মিস্ত্রী শংকর কুমার শীলের স্ত্রী শেফালী রানী। শেফালীর বড় মেয়ে কলেজ পড়ুয়া শান্তি রানী জানান, শনিবার দুপুরে চালের পোকা নিধনের ওষুধ খায় আমার মা। এরপরে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা বিকেলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাই। সেখানেই রবিবার সকাল ৮ টার দিকে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের খোকা হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে শেফালী রানীর পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। শেফালী বিভিন্ন সময় অনেক এনজিও থেকে দুলালকে ঋণ নিয়ে টাকা তুলে দিতেন। গত কয়েক দিন ধরে শেফালীর সাথে দুলালের ঋণের টাকা নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। দুলাল শেফালীকে টাকা না দিয়ে বাজে ব্যবহার করেন। তাই দুলালের সাথে অভিমান করে শেফালী কিটনাশক খায়। পরে তিনি অসুস্থ হলে দুলালই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তিনি মারা যান।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিধু ভূষন মন্ডল জানান, শনিবার দুপুরে শেফালী রানী অসুস্থ হলে আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এসময় শেফালী চালের পোকা মারা ওষুধ খেয়েছেন বলে আমাকে জানান। কেন খেয়েছে জানতে চাইলে শেফালী বলেছিলেন কেউ একজন তাকে গালি দিয়েছেন।
শেফালীর স্বামী শংকর কুমার দীর্ঘদিন ধরে মঠবাড়িয়া উপজেলায় তার শ্বশুর বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তিনি নিয়মিত বাড়িতে থাকেন না।
শেফালী রানীর ছোট মেয়ে সাথী রানী জানান, দুলালের আমাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সে আমাদের বাড়িতে আসে না।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির জানান, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেফালী রানী মারা গিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial