কচুয়ায় পেশেন্ট কেয়ারের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ॥ ভুল রিপোর্ট দিয়ে চলছে ব্যবসা
বাগেরহাটের কচুয়ায় সঠিক নিয়ম কানুন না মেনে পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টের কারণে নি:স্ব হচ্ছেন অনেক গরীব পরিবার। মানহীন এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট আসায় চরম বিপাকে পড়ছেন অনেকেই। তাদেরই একজন ভুক্তেেভাগী মো. জুলফিকার আলী শেখ। কৃষক জুলফিকার আলী শেখ কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ইমান আলী শেখের ছেলে।
জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে গত ২রা সেপ্টেম্বর কচুয়া মীর মাকের্টের ২য় তলায় পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্টের জন্য আসেন। টেস্টের রিপোর্টে ক্রিয়েটিনাইন ১.৮৩ আসে। চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করেন এবং সে আলোকে ওষুধ দেন জুলফিকার আলীকে। রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসক জানান- তার দুটি কিডনিতেই সমস্যা রয়েছে। এতে চরম হতাশায় পড়েন তার পরিবার। রিপোর্ট অনুযায়ী ঔষধ খেয়ে রোগ মুক্তির বদলে তার শরীরে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়। দুই দিন ঔষধ খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে পাশ^বর্তি অনেকের কাজ থেকে ধার দেনা করে দরিদ্র জুফিকারকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে নতুন করে চেকআপ করানো হলে জানা যায় তার শরীরে কিডনিজনিত কোন সমস্যা ধরা হয়নি। সেখানে টেস্টের রিপোর্টে ক্রিয়েটিনাইন ০.৯২ আসে। তার শরীরে গ্যাস্টিকের সমস্যা ধরা পড়ে। ঢাকায় দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে আসেন। রিপোর্ট ভুলের কারণে তার জীবন বাঁচাতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। যার সব টাকাই অন্যের কাজ থেকে ধার করা। শুধু জুলফিকার নয় কচুয়া সদর, মঘিয়া, জুসখোলা, ভাষা গ্রামের একাধিক লোক অভিযোগ করে বলেন, তারাও পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এ ধরনের ভুল রিপোর্টের কারণে চরম ভোগান্তির সম্মূখিন হয়েছেন। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে তৈরি হচ্ছে নতুন রোগ বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এদিকে, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, একজন বিএসসি টেকনিশিয়্যান খুবই জরুরী। যা নেই পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নেই বজ্ব্য নিস্কসনের সঠিক কোন ব্যবস্থা। টেস্ট করার সঠিক যন্ত্রাংশসহ অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় থাকতে হবে, যার কোনটাই নেই পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
হাসিবুর রহমান, মাহন মন্ডল, ফরহাদ হোসেন ও মো. সুমন এই ৪ জন শেয়ারহোল্ডার ও একজন কর্মচারী মিলে পরিচালনা করছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার মধ্যে হাসিবুর রহমান নামে একজন ল্যাব টেকনিশিয়্যান ছাড়া অন্য তিন শেয়ারহোল্ডার যাদের কারো মেডিকেল বিষয়ক কোন সার্টিফিকেট নেই। সম্পূর্ন বেআইনী ও নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিজেদের ইচ্ছামত জনগণকে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এদের ভুয়া রিপোর্টের ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও শারিরীকভাবে পড়ছে চরম বিপাকে। নি:স্ব হচ্ছে অনেকের পরিবার।
এ বিষয়ে ডা. গৌতম হোসেন মন্ডল বলেন, চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করেন এবং সে আলোকে ওষুধ দেওয়া হয়েছে জুলফিকার আলীকে।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির জানান, ক্রিয়েটিনইিন ০.৬ থেকে ১.২ পর্যন্ত থাকলে কিডনি অবস্থা স্বভাবিক থাকে। সে ক্ষেত্রে কিডনিজনিত কিছুটা জটিলতা থাকায় রিপোর্টে ক্রিয়েটিনইিন ১.৮৩ আসে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে পেশেন্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে এবং সরকারী নিয়ম-কানুন না মেনে পরিচালনা করলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান তিনি।
