স্বরূপকাঠীতে বিধবা নারীর পারিবারিক সমাধি ভেঙ্গে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নে এক বিধবা মহিলার পারিবারিক সমাধি ভেঙ্গে উপর দিয়ে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি চেয়ারম্যান আশিষ কুমার বড়ালের বিরুদ্ধে। পূর্ব জলাবাড়ী গ্রামের মৃত রতন লাল মিস্ত্রীর স্ত্রী সুভাশিনী রায় অভিযোগ করেন, গ্রামীন ছোট রাস্তার পার্শ্বে তার স্বামী ও শশুরের সমাধি ছিল। সেই রাস্তা চওড়া করার নামে চেয়ারম্যান আশিষ কুমার বড়ালের নির্দেশে চৌকিদার অসিম শিয়ালীর নেতৃত্বে পলাশ মিস্ত্রি, শিশির মল্লিক, রঞ্জিত মল্লিক ওই সমাধি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সুভাশিনীর বাড়ির মধ্যে থাকা নিজস্ব গভীর নলকূপ উপড়ে ফেলে এবং বেশ কয়টি গাছ কেটে রাস্তা নির্মান করার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে ওই নারীকে জীবন নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে রোববার রাতে সুভাষিনী রায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে জানা যায় রাস্তা নির্মানের নামে ইউপি চেয়ারম্যান আশিস বড়ালের নির্দেশে চৌকিদার অসিম শিয়ালী ও তার লোকজন বিধবা সুভাশিনী রায় এর পারিবারিক সমাধীতে থাকা তার স্বামী, শশুর ও শাশুড়ির সমাধী ভেঙ্গে ফেলে রাস্তা চওড়া করেন। এছাড়াও ওই বিধবার নিজস্ব একটি গভীর নলকূপের পাইপ মাটির গভীর থেকে কেটে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার কাজ করাচ্ছেন। এসময় চেয়ারম্যান ওই বিধবাকে তার পারিবারিক মন্দির সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ করেন সুভাশিনী রায়। এর আগে সুভাষিনী মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলে তার অনুপস্থিতিতে জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ৫/৬টি গাছ কেটে পাশের খালে একটি কাঠের পুল নির্মান করেন চেয়ারম্যান। বিধবার বাড়ির সমাধি ভাঙ্গার খবর পেয়ে শনিবার রাতে ইউএনও মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন (পিপিএম) ও নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আউয়াল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে জলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আশিষ কুমার বড়াল বলেন, ওই বিধবার বাড়ির পিছনের ১৫/১৬টি পরিবারসহ জনগনের স্বার্থেই ওখানে রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমাধী স্থানান্তর করার বিধান আছে এবং কথা বলেই মাটি দিয়ে তৈরী তাদের সমাধী আমি পাকা করে দেয়ার শর্তে সরিয়েছি। বিধবাকে প্রাননাশের হুমকি দেয়ার কথা অস্বীকার করেন চেয়ারম্যান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসা সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ওই বিধবার বাড়িতে গিয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও মো. মোশারফ হোসেন জানান, বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওখানে খালের পাড়ে সরকারি কোন জমি আছে কিনা দেখে আমরা সেই জায়গায় রাস্তা করা যায় কিনা চেষ্টা করব।
