প্রধান সূচি

৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্নবাসন নির্দেশনা

মোংলা বন্দরে প্রশাসনের ভেঙ্গে দেয়া দেড় শতাধিক প্লট মালিক ও ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায়

বিগত তত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরী অবস্থার মধ্যে মোংলার পুরাতন বন্দর এলাকায় (শহর) সরকারী খাস জমি (চর ল্যান্ড) মনে করে বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজারাদার দেয়া দেড় শতাধিক প্লট উপজেলা প্রশাসন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াসহ উচ্ছেদ করে। পরবর্তিতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরেজমিন পরিমাপে উচ্ছেদ করা ওই প্লটের জায়গা বন্দরের নিজস্ব অধীগ্রহণকৃত জমির মধ্যে রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে উচ্ছেদকৃত জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পুনর্বাসনের সরকারী নির্দেশনা দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে প্লট মালিক ও ব্যবসায়ীরা এখনও অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকা পড়েছেন।

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পার হলেও ব্যবসায়ীরা এখনও ফিরে পায়নি তাদের নির্ধারিত প্লট। ফলে ব্যবসার পূঁজিসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে এসব ব্যবসায়ীদের। আর ৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পূর্নবাসন সংক্রান্ত নির্দেশনা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ী এখন হতাশার মধ্যে রয়েছেন। কবে নাগাদ ব্যবসায়িক প্লট ফিরে পাবেন তাও জানা নেই তাদের।

মোংলা পৌর শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, পুরাতন মোংলার রিজেকশনগোলী, ফেরিঘাট, মামারঘাট, বেঙ্গলওয়াটার জেটি ২নং জেটি, ১নং জেটি সংলগ্ন এলাকায় মোংলা বন্দরের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী ১৫২টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থায় সরকারী খাস জমির অধীনে থাকার অজুহাতে একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় পুরাতন বন্দর ও পৌর শহরে ব্যবসায়ীদের ১৫২টি বৈধ প্লট বুলড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০১৪ সালে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরেজমিন পরিমাপে উচ্ছেদ করা ওই প্লটের জায়গা বন্দরের নিজস্ব অধীগ্রহণকৃত জমির মধ্যে রয়েছে বলে প্রমানিত হয়। এ নিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ব্যবসায়ীদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য  নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ ৫ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে ব্যবসায়ীরাও ফিরে পায়নি তাদের প্লটগুলো। শুধু আশার আলো নিয়েই ফিরছেন তারা। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৭ জুন মোংলা বন্দর বনিক সমিতির পক্ষ থেকে প্লট বুঝে পেতে পুনরায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ, আ. গনি বড় মিয়া, সাহেব আলী মল্লিকসহ অনেকেই জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের প্লটগুলো হারিয়ে পথে বসেছে। এতে মোংলা বন্দরের ব্যবসা বানিজ্যে যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বন্দর হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৪ মে প্লট মালিক ও ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত সভার এক মাসের মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এদিকে, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও তাদের নির্ধারিত প্লটে অবৈধভাবে অনেকে আস্তানা গড়ে তুলছে। এ বিষয়ে প্লট মালিকরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও মিলছে না স্থায়ী কোন সমাধান। উচ্ছেদকৃত জায়গার মধ্যে কেউ কেউ অবৈধ দখলে নেয়ায় উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। পূনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং এ মামলা নিয়ে তেমন জটিলতা নেই বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। ব্যবসায়ীরা বলেন, প্লট পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট সভায় মামলা প্রত্যাহার করার লিখিত অঙ্গিকার করা হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কৌশলে তা মানতে চাইছে না। ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের কতিপয় নেতা ও অসাধু কর্মকর্তাদের ইন্ধনে বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের জায়গার বরাদ্দপত্র বাতিল করে নামে বেনামে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। মামলা একটি অজুহাত মাত্র।

এ বিষয় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, জরুরী অবস্থায় ভেঙ্গে দেয়া ব্যবসায়ীদের স্ব-স্ব প্লট তাদের বুঝিয়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় এ বিষয় এখনই কোন সমাধান করা সম্ভব নয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial