মাছ চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলেন কলেজ শিক্ষক স্বরজ কুমার
গভীর রাতে মাছ চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খেলেন বাগেরহাটের চিরুলিয়া বিষ্ণপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক স্বরজ কুমার পাল (৪৮)। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার রাধাভল্লব গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ঘেরে মাছ চুরির সময় জাহাঙ্গীরের ছেলে জাল ও মাছসহ স্বরজ কুমারকে ধরে ফেলে। এ সময় স্বরজের সাথে থাকা তার ভাই উৎপল পাল মাছ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা চলে আসেন। স্বরজের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন শালিস বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার কথা বলেন। এসময় স্বরজ পালও অচমকা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
কিন্তু বিধিবাম শিক্ষক স্বরজ পালের। হাতে নাতে ধরা খাওয়া এই ঘটনার ভিডিও করে স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে কয়েকজন। শিক্ষক স্বরজ পালের মাছ চুরির ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে বাগেরহাট সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছে ঘের মালিক জাহাঙ্গির হোসেন।
ঘের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করতে ছিলাম ঘের থেকে কেউ মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধরতে পারিনা। শুক্রবার রাতে ছেলে গাছে উঠে পাহারা দেয়। রাত ৩টার দিকে দেখে দুইজন লোক ঘেরে মাছ ধরছে। এসময় আমার ছেলে রেজওয়ান ও তার বন্ধুরা মিলে হাতে নাতে ধরে ফেলে স্বরজ পালকে। আর অন্যজন মাছ নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে স্থানীয় পর্যায়ে মিটিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এর আগে স্বরজ পাল ও তার ভাই আমার ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেন, চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। স্বরজ পাল সম্মানিত মানুষ। আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার।
কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক স্বরজ পালের মাছ চুরি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহতাব উদ্দিন বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
