প্রধান সূচি

করোনা পরিস্থিতি

বেতন না পেয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে বিআরডিবি’র কর্মচারীরা

করোনা দূর্যোগেও করুনা হয়নি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃপক্ষের। বিআরডিবি’র মূল কর্মসূচি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ) সদাবিক, পল্লী প্রগতিসহ চলমান প্রকল্প/কর্মসূচির কর্মচারীদের দীর্ঘদিন বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় চরম মানবতার জীবন যাপন করছে কর্মচারীরা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচরীদের স্থায়ী কোন বেতন ভাতার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং বিআরডিবি’র বোর্ড সভায় ইউসিসিএসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্প/কর্মসূচি থেকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ও রাজস্ব করণের জন্য হাইকোর্টের রায় থাকার পরেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিআরডিবিতে উপজেলা পর্যায়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর রাজস্ব বাজেটভূক্ত কর্মচারী না থাকায় ইউসিসিএ কর্মচারীদের অফিসের সকল কাজ করতে হয় এবং ইউসিসিএর পরিদর্শকসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাঠ সংগঠকরা মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু তাদের নিয়মিত বেতন দেয়া হচ্ছে না। ইন্দুরকানীতে ইউসিসিএসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে বর্তমানে মোট ১০জন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও এদের বেতন বন্ধ প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মাস।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী বিআরডিবির অফিস সহকারী মো. মনিরুল ইসলাম (নাসির) বলেন, সারাদেশে ইউসিসিএসহ সকল উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচির প্রায় ৮ হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী কর্মরত আছে। ঋন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় করোনা দূর্যোগের মধ্যেও বিআরডিবি তাদের কোন বেতনের ব্যবস্থা করতে পারে নি যা অমানবিক আচরণ। উপজেলায় চাকুরি করার কারণে করোনা দূর্যোগেও ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে তারা।
সদাবিক প্রকল্পের মাঠ সহকারী লাইসা সুলতানা বলেন, আমরা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে টানা ৬ মাস বিআরডিবি সদর দপ্তর ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ অবস্থান কর্মসূচি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করি। এসকল কর্মসূচিতে তৎকালীন বিআরডিবির মহাপরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের চলতি বছরের ২৬ মার্চ তারিখের মধ্যে বেতন ভাতার স্থায়ী সমাধানের কথা বলে আন্দোলন স্থগিত করান। কিন্তু এখনও কোন সমাধান হয়নি, ফলে আমরা দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছি।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এই সকল কর্মচারীদের ঋনের সেবামূল্য থেকে বেতন দেয়া হতো। কিন্তু করোনা দূর্যোগে ঋন আদায় ও বিতরণ বন্ধ থাকায় বর্তমানে বেতন ভাতা পুরোপুরি বন্ধ আছে। সংকট নিরসনে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial