প্রধান সূচি

করোনা-ভাইরাস : সতর্ক থাকুন

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ধরন উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার প্রধান গত শনিবার বলেছেন, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রার্দুভাব ঠেকানোর সুযোগ দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই উদ্বেগের কারণ হলো চীনের কোন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা বা চীন সফর না করেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অনেকে। চীনের বাইরে এখন পর্যন্ত ২৬ টি দেশে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
করোনা গোত্রের নতুন যে ভাইরাসটি সম্প্রতি শনাক্ত হয়েছে, তার নাম নভেল করোনা ভাইরাস। এটি ভাইরাসের সপ্তম বৃহৎ প্রজাতি। চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশের পর নিজের গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিতে এবং সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম। এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। আবিষ্কৃত হয়নি টিকা কিংবা প্রতিষেধক।
যেভাবে ছড়ায় :
উট, বাদুড়, সাপ, শূকর, বানর, বনবিড়াল, গন্ধগোকূলের মতো আক্রান্ত প্রাণী থেকে নভেল করোনা ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে বলে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জেনেছেন। এরপর বাতাসের মাধ্যমে কিংবা ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ ও সংক্রমিত বস্তুর সংস্পর্শে এটি জনপদে ছড়াতে শুরু করে। ভাইরাসটি প্রথমে মানুষের শ^াসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে থাকে। সাধারণত ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাসটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।
লক্ষণ :
১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ¦র
শুকনো কাশি
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
বুকে কফ জমা
বুকে ব্যথা
পেটের পীড়া
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ৫-৭ দিন লেগে যেতে পারে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। এরপর আসে শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।

প্রতিকার :
ভাইরাস নির্মূলের উপায় আবিষ্কৃত না হলেও, এ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, চিকিৎসার মাধ্যমে সেগুলোর উপশম সম্ভব। সংক্রমণ এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে, যেমন-
ঠান্ডা বা ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
বন্যপ্রাণী ও গৃহপালিত পশু খালি হাতে স্পর্শ নয়
বারবার হাত ধুয়ে পরিচ্ছন্ন থাকুন
হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করাই ভালো
বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন
ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র পরিষ্কার রাখুন
ফলের রস ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন
নিউমোনিয়া ও অন্যান্য লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

চিন, হংকং-সহ আক্রান্ত কোনো দেশ ভ্রমণ করে দেশে ফেরার ১৪ দিনের মধ্যে কারও ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ¦র, গলাব্যথা, কাশি ও শ^াসকষ্ট দেখা দিলে, তার দেহে নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক : ডা.সিদ্ধার্থ দেব মজুমদার
মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ, ল্যাবএইড হাসাপাতাল, ঢাকা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial