ইন্দুরকানীতে কঁচার মোহনায় বিনোদন কেন্দ্রের যাত্রা
ইন্দুরকানীতে কঁচা নদীর মোহনায় গড়ে উঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমিতে বিনোদন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হচ্ছে। যেখানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সকল ধরণের প্রস্তুতি চলছে। ১ ফালগুন শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানিকভাবে এ বিনোদন কেন্দ্রটির নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষে এদিন সেখানে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের কঁচা নদীর মোহনায় ৫ একর জমিতে এর কাজ করা হচ্ছে। এখানে এক দিকে রয়েছে সুপ্রাচীন পাড়েরহাট বন্দর। আর একদিকে রয়েছে সূর্য প্রসন্ন বাজপায়ীর বিখ্যাত জমিদার বাড়ি। আবার তার বিপরীত দিকেই রয়েছে বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এছাড়াও এখানে রয়েছে রাসায়নিকমুক্ত শুটকি পল্লী। প্রভাতে কঁচা নদীর বুকচিরে যেমন সূর্য উদয় হয়। ঠিক তেমনি বেলা শেষে এখান থেকেই সূর্যায়াস্তের দৃশ্যও অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। নদী তীরে আঁচড়ে পড়া ঢেউ দিবে দর্শনার্থীদের ভিন্ন মাত্রার আনন্দ। এখান থেকে সামুদ্রিক মাছ ও শুটকি ক্রয়ের রয়েছে বিশেষ সুবিধা।
তাই এমন স্থানটিকে পর্যটকদের জন্য আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইন্দুরকানী উপজেলা প্রশাসন। দুই মাস ধরে ওই স্থানটি পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য চলছে নানা ধরনের কাজ। যার সব কিছুই তত্বাবধায়নে রয়েছেন ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ। তিনি জানান, ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এই এলাকাটিকে আরো পর্যটনমূখী করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার প্রবেশ দ্বারের শুরুতেই রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য একটি টিকেট কাউন্টার। এর পরে থাকছে একটি কফি হাউজ। তৈরী করা হয়েছে ছোট ছোট দ্বীপ। যা দেখতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। নির্মানাধীন স্থাপনাগুলো সবই হচ্ছে সুপারী গাছ ও বিভিন্ন ধরনের গাছের কাঠের তৈরী।
পার্কের নির্মাতা ডিজাইনার ভূইয়া শাহীন সানী জানান, জলবায়ু দূষনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ও প্রাণী জীবনাচার। রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশ বান্ধব স্থাপনা নির্মানই কেবল পরিত্রানের উপায়। তাই আমার কাজের মাধ্যমে প্রকৃতি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমি অধিক মনোযোগী।
পার্ক সংলগ্ন পাড়েরহাট আবাসন এলাকার ইউপি সদস্য মহসীন হাওলাদার জানান, পাড়েরহাটে পার্ক স্থাপনের কারণে আবাসনের ১৫০টি পরিবার নানামূখী কাজের সুযোগ পাবে, তেমনি পর্যটনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে সারা দেশের মানুষ এখানে ভ্রমন করতে পারবে।
