বাগেরহাটে রামপালে ব্যবসায়ীকে হত্যার চেষ্ঠা
বাগেরহাটের রামপালের শোলাকুড়া গ্রামে ইব্রাহিম নামে এক ব্যবসায়ীকে ৪/৫ জনের একদল সন্ত্রাসী হত্যার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাপারে আহত ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বাদী হয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর মোল্লাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে রামপাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের ইব্রাহিম ফকিরের সাথে প্রতিবেশী হারুন শেখসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামী জাহাঙ্গীর মোল্লা, হারুন মোল্লাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমাসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। ইতিপুর্বে ইব্রাহিম এর স্ত্রী মরিয়ামকে ওই সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। পুর্ব বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীর, হারুনসহ ৪/৫ জনের একদল সন্ত্রাসী ইব্রাহিম এর বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘর থেকে টেনে বের করে তাকে (ইব্রাহিম)কে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে জবাই করার চেষ্ঠা করে। এসময় দা নিয়ে ধস্তাধস্তিতে ইব্রাহিমের হাত কেটে গুরুত্বর জখম হয় এবং তার ডাক চিৎকারে স্ত্রী মরিয়াম বেগম, কন্যা টুম্পা, ছেলে বায়েজিতসহ প্রতিবেশী আ. রহমান, লিপি বেগম ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে গুরুত্বর আহত ইব্রাহিমকে উদ্বার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ডাক্তার তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের একদল সংবাদকর্মী সরেজমিনে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য শাহীন গাজীসহ এলাকার রাজ্জাক গাজী, রহমান ফকির, জাহাঙ্গীর শেখ, শাহাজান গাজী, নিজাম শেখ, জাহেদা বেগম, ইলিয়াছ শেখ, হাফেজ মারুফ গাজীসহ আরো অনেকে বলেন, জাহাঙ্গীর মোল্লা, হারুন মোল্লা, হোসেন গাজী, নাহিদ এর বিরুদ্ধে হত্যা, চাদাবাজীসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এতই প্রভাবশালী যে, তাদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়ন। তারা এলাকায় চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে জোর করে অন্যের জমি দখল, মৎস্য ঘের দখল, মাছ লুট, নারী নির্যাতন, মারামরিসহ এমন কোন কাজ নেই যা তারা করে না। আর তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে ক্ষতিগ্রস্থদের উপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতনসহ নানান রকম হয়রানী।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর, হারুন গংরা তাদের নামে হত্যাসহ একাধিক মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা আছে তবে অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে রামপাল থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবেশীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
