ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্কে শরণখোলার মানুষ
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের মতো একইভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ সৃষ্টি হওয়ায় ‘সিডর ও আইলা’ বিধ্বস্ত শরণখোলার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে হালকা বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। শরণখোলাসহ উপকূল জুড়ে সিডরের পূর্বমুহূর্তের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণায় নেমেছেন।
এদিকে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরী সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রনজিৎ সরকার জানিয়েছেন।
শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে জরুরী সভা করে পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলেছেন বলে জানান তিনি।
সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা এবং ইউডিএমসির সদস্যদের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে শুকনো খাবার মজুদ রাখতে। একইভাবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের সব বিভাগকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণীঝড় বুলবুলের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে টিকতে না পেরে ফিসিংবোট বহর সুন্দরবনসহ উপকূলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার সকালে সাগরে ভাসমান এক জেলেকে উদ্ধার করেছে দুবলারচরের জেলেরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর থেকে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, শুক্রবার সকালে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের জেলেরা দুবলারচরের অদুরে সাগরে ভাসতে থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধারকৃত জেলে অসংলগ্ন ভাবে নাম জাহাঙ্গীর আলম (৪০) তার বোটে ১১ জেলে ছিল এবং বাড়ী চট্টগামের ফটিকছড়ি বলে সে জানায়। ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে প্রচন্ড উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা ফিসিংবোট নিয়ে দুবলারচরের মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, নারিকেলবাড়ীয়াসহ অন্যান্য স্থানে ছোট ছোট খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাস বইছে বলে তিনি জানান।
শরণখোলা উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, তাদের ফিসিংবোট সাগরে টিকতে না পেরে অধিকাংশ বোট শরণখোলা মৎস্য ঘাটে ফিরে এসেছে। কিছু বোট মহিপুরে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টিশুরু এবং ৪নং সতর্ক সংকেত জারী হওয়ায় শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহন করেছে। উপজেলার ৮৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে।
